প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ!

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তার পরেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েত। বিক্ষোভ সামাল দিতে নেমে ধরপাকড় শুরু করল দিল্লি পুলিশ। আটক করা হল অন্তত ১১০০ জনকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতীশী মারলেনা, আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং, সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য বৃন্দা কারাট, আইসা নেত্রী নেহা বোরা-সহ একাধিক বিরোধী নেতা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুব ও নাগরিক সমাজের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আপ, আইসা, রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্যোক্তা। তবে দিল্লি পুলিশ জমায়েতের অনুমতি দেয়নি।

বিক্ষোভ রুখতে সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এবং নয়াদিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর অতিরিক্ত জওয়ান। বসানো হয় ব্যারিকেড। একাধিক রাস্তা বন্ধ রাখার পাশাপাশি ১১টি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

তার পরেও যন্তর মন্তরে ভিড় করেন আপ সমর্থক-সহ বহু মানুষ। সকালেই পুলিশের সঙ্গে আপ সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়। আটক করা হয় দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজকে। পরে বিক্ষোভে যোগ দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতীশী মারলেনা এবং আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং। তাঁদেরও আটক করে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন আইসার নেত্রী নেহা বোরা এবং সিপিএমের বৃন্দা কারাটও। সব মিলিয়ে আটক ব্যক্তির সংখ্যা অন্তত ১১০০ বলে জানা গিয়েছে।

এ দিকে শুক্রবার মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কেও জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সেখানেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এর পর সংগঠনের নেতা অভিজিৎ দীপকেরা ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। আগামী দিনে কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং গোয়াতেও একই কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে এবং তার দায় নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত। অন্য দিকে, অনুমতি ছাড়া জমায়েত ঠেকানোই পুলিশের পদক্ষেপের কারণ বলে জানানো হয়েছে।