ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ঘোষণা, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে এসে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবেন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়েছিল রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর। ভোটার তালিকা, এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ফের যন্তর মন্তর 2.0 এর ডাক সিজেপি-র। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ঘোষণা, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে এসে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবেন। শুক্রবার মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপি-র বিক্ষোভের পরই এই ঘোষণা সামনে আসে। অর্থাৎ মুম্বইয়ের পর এবার আন্দোলনের পরবর্তী গন্তব্য দিল্লি। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির সেই আন্দোলনের নামই যন্তর মন্তর টু পয়েন্ট জিরো।
পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর। সিজেপি-র অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই অভিযোগ এবং এসআইআর নিয়ে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে সিজেপি।
এই আন্দোলনের ডাক কিন্তু আচমকা নয়। এর আগে গত মাসে ককরোচরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছিল। তখন ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামের কথা বলা হয়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া নিয়েও স্বাধীন তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল। সেই সময়ই সামনে আসে যন্তর মন্তর 2.0-র হুঁশিয়ারি। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের দাবি থেকে অক্টোবরের রাজপথ-আন্দোলনের সুর আওর জোরালো করার চেষ্টা করছে সিজেপি।
দিল্লির আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণার আগে মুম্বইয়ে আয়োজিত সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের ভিড় হয়েছিল। প্রবীণ অভিনেতা নাসিরউদ্দিন শাহ, অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দাদলানির মতো ব্যক্তিত্বরাও এতে সামিল হয়েছিলেন। যেমনটা দেখা গিয়েছিল জুলাই মাসের আন্দোলনে, এবারও তরুণ প্রজন্ম ব্যাঙ্গাত্মক প্লেকার্ড আর জনপ্রিয় গানের নতুন প্যারোডি বানিয়ে নজর কেড়েছে। GYANU MUST GO কিংবা DEMOCRACY SAAF এর মতো পোস্টারের পাশাপাশি বলিউডের জনপ্রিয় গানকে বিক্ষোভকারীদের গাইতে দেখা যায়-ভোট চুরায়া মেরা কিসনে ও সনম? জ্ঞানু নে। শিবাজি পার্কের মঞ্চ থেকে দীপকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, জ্ঞানু পদত্যাগ না করলে লড়াই অন্য জায়গায় যাবে। কারণ আসল খেলাটা তো নান্দু চালাচ্ছে, যে ব্যাকস্টেজ থেকে নির্বাচন রিগিং করছে!
শুধু জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নয়। সিজেপির পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের কাঠানো নিয়েও একাধিক দাবি সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনের পরিবর্তনের দাবি।
সিজেপির আন্দোলনের সঙ্গে যন্তর মন্তরের সম্পর্ক নতুন নয়। আর আগে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করেও দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন চালিয়েছিলেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অভিজিৎ দীপকে এবং সিজেপির অন্যান্য নেতারা সেই আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথাও নতুন কর্মসূচির সময় তুলে ধরেছেন। দিল্লির পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে স্মরণ করিয়ে দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং অহিংস। তবে তিনি ২০ জুলাইয়ের ঘটনার স্মৃতি উসকে সতর্ক করেছেন প্রশাসনকে। ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের সময় হাজার হাজার ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর দিল্লি পুলিশ, RAF এবং সিআরপিএফ-এর সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল রাজধানী। সেদিনের সংঘর্ষে প্রচুর ছাত্রে পাশাপাশি বহু পুলিশকর্মীও জখম হয়েছিলেন।
অভিযোগ ওঠে, ভিড় হটাতে পড়ুয়াদের লক্ষ করে প্যালেট বা ছররা গুলি ছোড়া হয়েছিল। বহু পড়ুয়ার দেহে ছররা ক্ষতের ছবি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় দেশজুড়ে। গত অগাস্টে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়। শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই হিংসা এবং পুলিশের অতিসক্রিয়াতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অভিজিৎ দীপকে বলেন, তাঁরা মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথেই হাঁটবেন। তবে সরকার ও দিল্লি পুলিশ তাঁদের আন্দোলন করার গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান জানাবে, নাটি ২০ জুলাইয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে তা তাঁদের সিদ্ধান্ত। এই লড়াইয়কে গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই হিসাবে আখ্যা দিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিককে আন্দোলনে যোগদান করার আহ্বান জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ১০ অক্টোবর কী হতে চলেছে? সিজেপি বলছে,
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ দিল্লিতে আসবেন।অভিজিৎ দীপকের ঘোষণা অনুযায়ী, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে এই বিক্ষোভ হবেই।অন্যদিকে, দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলে প্রশাসনের অনুমতি ও বিধিনিষেধও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।কারণ যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদস্থল।ফলে ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘিরে নজর থাকবে দিল্লি পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক মহলেরও।
একদিকে ভোটার তালিকার সংশোধন এবং SIR নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক।অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ।
তার মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি।
মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক থেকে এবার সেই আন্দোলনের ডাক রাজধানী দিল্লিতে। তারিখ ১০ অক্টোবর, জায়গা যন্তর মন্তর।ভোটার তালিকা থেকে নির্বাচন কমিশন-১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তর তাই ফের জাতীয় রাজনীতির নজরের কেন্দ্রে।