দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য, সরকারি কাজে বাধা এবং বেআইনি জমায়েত-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে এ বার পুলিশের মামলা। ২ অক্টোবরের ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে। দু’টি মামলা হয়েছে সংসদ মার্গ থানায়, অন্যটি কনট প্লেস থানায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য, সরকারি কাজে বাধা এবং বেআইনি জমায়েত-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের একাংশ। দিল্লি পুলিশ অবশ্য আগে থেকেই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। কেন্দ্রীয় দিল্লিতে BNSS-এর ১৬৩ ধারা জারি করে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তার পরেও যন্তর মন্তরের দিকে বিক্ষোভকারীরা এগোলে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, পাঁচশোরও বেশি, এমনকি পুলিশি হিসাবে প্রায় ৭০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। আটক নেতাদের মধ্যে ছিলেন আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী মারলেনা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং AISA-র নেত্রী নেহা বোরাও।
বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের মতপার্থক্য নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী ভোটার তালিকা, ভোটার নথিভুক্তকরণ এবং কমিশনের প্রযুক্তি ব্যবস্থা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বিক্ষোভকারীদের আটক হওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, সাধারণ মানুষের ভোট রক্ষার লড়াই হিসাবেই তাঁরা এই আন্দোলন চালাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে রয়েছে।
এ দিকে এফআইআর দায়েরের পর যন্তর মন্তর-কাণ্ড আরও আইনি মোড় নিল। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন এখন বিক্ষোভের গণ্ডি পেরিয়ে আইনি লড়াইয়ের দিকেও এগোচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।