শনিবার নারকো-চক্রের ‘কিংপিন’ নবপ্রীতকে তুরস্ক থেকে ভারতে ফেরানো হয়। এর পরেই তাঁকে আদালতে হাজির করে দিল্লি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
তুরস্ক থেকে ভারতে ফেরানোর পরই বড়সড় আইনি ধাক্কা। মাদক পাচার চক্রের কথিত ‘কিংপিন’ নবপ্রীত সিংকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। শনিবার তাঁকে তুরস্ক থেকে ভারতে ফেরানো হয়। এর পরেই তাঁকে আদালতে হাজির করে দিল্লি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।
পুলিশের দাবি, গোটা নারকো-নেটওয়ার্কের মূল মাথা নবপ্রীত। দিল্লিতে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তিনি নিজের শরীরে আঘাত করার চেষ্টা করেন বলে আদালতকে জানানো হয়েছে। তাঁর মেডিকো-লিগ্যাল সার্টিফিকেট বা এমএলসি করানো হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতেই নবপ্রীতকে ‘প্রোক্লেইমড অফেন্ডার’ ঘোষণা করেছিল আদালত। মাদক পাচারের এই মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিট জমা পড়েছে এবং আরও তিন অভিযুক্ত— রামদীপ, গুরজিত এবং গুরজোতের সঙ্গে নবপ্রীতের যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে নবপ্রীতকে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং পঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। ওই সব জায়গায় মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
এর মধ্যেই শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, তুরস্ক থেকে নবপ্রীতকে ভারতে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে সরকার। তাঁর অভিযোগ, ‘নবাব ভির্ক’ নামে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে নবপ্রীত তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন। আফগানিস্তান থেকে হেরোইন এবং মেথামফেটামিন ভারতে পাচারের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল বলেও দাবি করেছেন শাহ।
এক্স-এ পোস্ট করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁর আসল পরিচয় সামনে এনে তাঁকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। অভিযানে যুক্ত সমস্ত সংস্থাকে অভিনন্দনও জানান তিনি।
শাহ আরও জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সমস্ত নারকো-কার্টেল ধ্বংস করার লক্ষ্যে কাজ করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এখন ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নবপ্রীতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই মাদক-চক্রের আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করবে তদন্তকারীরা।