বিজেপিকে ঠেকাবো না, ধ্বংস করব : রাহুল

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা SIR-কে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ফের উত্তপ্ত দিল্লি। নির্বাচন কমিশনের দফতর অভিমুখে INDIA জোটের মিছিল ঘিরে তৈরি হল ধুন্ধুমার পরিস্থিতি।

কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি তুললেন বিরোধী সাংসদেরা। সেই বিক্ষোভের মঞ্চ থেকেই আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গেল রাহুল গান্ধীকে ।

লোকসভার বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। প্রায় ৩০০ জন সাংসদ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েও বাধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাহুলের প্রশ্ন, ‘‘দেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই যদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলতে না পারেন, তা হলে দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা কী?’’

এর পরেই আরও কড়া সুরে কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘‘আমরা বিজেপিকে শুধু প্রতিহত করছি না, ধ্বংস করব।’’ তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রয়েছে এবং জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের সহযোগিতা করেছেন। রাহুলের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত কারও রেহাই নেই। ‘‘দেশের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তাকে বিশ্বাসঘাতকতা বলা যায়। কেউ পালাতে পারবে না,’’ এই বলে শাসকদলকে নিশানা করেন তিনি।

মঙ্গলবার সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর ‘নির্বাচন সদন’ পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল INDIA জোট। রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা মিছিলে যোগ দেন। কমিশনের দফতরের কাছে পৌঁছতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। কংগ্রেস কর্মীদের একাংশ ব্যারিকেড টপকে এগোনোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-সহ কয়েক জন সাংসদ কাছের আকাশবাণী ভবন চত্বরে বসে অবস্থান বিক্ষোভ করেন।

এ দিকে, এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস কর্মীদের একাংশ আকাশবাণী ভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তাঁদের কয়েক জনকে আটক করে পুলিশ।

SIR ঘিরে ভোটার তালিকার ‘অসঙ্গতি’র অভিযোগ তুলে বিরোধীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ এই কর্মসূচি। কমিশনের স্বচ্ছতা এবং ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।