দীর্ঘ ১০ বছর পর ত্রিপুরার TTAADC এলাকায় ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বড় সাফল্য এনডিএ-র। মঙ্গলবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং দলভিত্তিক ভোটের হার প্রকাশ করলেন ত্রিপুরা নির্বাচন কমিশনার প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী। কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, তিপ্রামথা, বিজেপি এবং আইপিএফটি- এনডিএ-র এই তিন শরিক দল মিলিয়ে পেয়েছে ৭৭.৫০ শতাংশ ভোট। ফল ঘোষিত ৪,৫৯৪টি আসনের মধ্যে এই তিন দল মিলিয়ে জিতেছে ৪,৩২০টি আসন। সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে তিপ্রামথা। অন্যদিকে সিপিআইএম, কংগ্রেস এবং নির্দলদের ফল তুলনায় অনেক পিছনে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
TTAADC-এর অধীনে মোট ছিল ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটি, ২,৬৩৪টি নির্বাচনী এলাকা এবং ৪,৫৯৭টি আসন। এর মধ্যে তিনটি আসন শূন্য থাকায় ফল ঘোষণা হয়েছে ৪,৫৯৪টি আসনের। দলভিত্তিক ফলাফলে তিপ্রামথা পেয়েছে ৩,৪২৮টি আসন
দলটির ভোটের হার ৪৬.৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ, আসন এবং ভোট- দুই ক্ষেত্রেই তিপ্রামথা সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। এর পরেই রয়েছে বিজেপি। বিজেপি জিতেছে ৮৫৯টি আসনে দলের ভোটের হার ২৮ শতাংশ এনডিএ-র আরেক শরিক আইপিএফটি পেয়েছে ৩৩টি আসন, ভোটের হার ২.৭৪ শতাংশ। এই তিন শরিক দল মিলিয়ে এনডিএ-র ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৭৭.৫০ শতাংশ।
বিরোধীদের ফল কী?
বিরোধীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে সিপিআইএম তাদের দখলে এসেছে ৮৭টি আসন,ভোটের হার ১২.৯০ শতাংশ। অন্যদিকে নির্দল প্রার্থীরা জিতেছেন ১৭৩টি আসনে তাঁদের সম্মিলিত ভোটের হার ৭.৭৪ শতাংশ। আর কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ১৪টি আসন দলের ভোটের হার ১.৮৬ শতাংশ এখনও তিনটি আসন শূন্য রয়েছে।
শুধু আসনের ফল নয়, গোটা ভিলেজ কমিটির হিসাবেও তিপ্রামথার বড় সাফল্য। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৫৭টি ভিলেজ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তিপ্রামথা। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ৯৪টি ভিলেজ কমিটিতে। সিপিআইএম এবং আইপিএফটি- দুই দলই পেয়েছে ২টি করে ভিলেজ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা। আর ৩১টি ভিলেজ কমিটিতে কোনও একটি দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অর্থাৎ, ভিলেজ কমিটির নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও তিপ্রামথার আধিপত্য স্পষ্ট। এই নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। কমিশনের হিসাবে, ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮০৮ জন। এর সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ৬,৬২৮টি EDC ভোট যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ভোট পড়েছে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৩৬টি। চূড়ান্ত ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৮১.২৯ শতাংশ। বিশেষ নজর কেড়েছে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণও। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটারের ভোটদানের সংখ্যা বেশি ছিল।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর TTAADC এলাকার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। তিনটি আসনে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হওয়ায় সেখানে ৩ অক্টোবর ফের ভোট নেওয়া হয়। এর পর ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয় ভোটগণনা। ত্রিপুরার ৪৪টি RD Block-এর ৪৫টি গণনাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গণনা সম্পন্ন হয়। কমিশন জানিয়েছে, গণনাকেন্দ্রে ছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, ত্রিপুরা পুলিশ এবং ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। কমিশনের দাবি, গণনাকেন্দ্রের ভিতরে বড় কোনও নিরাপত্তাজনিত ঘটনা ঘটেনি। চূড়ান্ত ফল সামনে আসতেই আগরতলার কৃষ্ণনগর এলাকায় ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ের সামনে দেখা যায় বিজয়ের ছবি। দলীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। চলে আবির খেলা এবং আনন্দ-উৎসব। দীর্ঘ এক দশক পর এডিসি এলাকার ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনে এনডিএ-র এই ফলাফলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিশেষ করে বিজেপির ৮৫৯টি আসন এবং ২৮ শতাংশ ভোট- দলের কাছে এই ফলাফল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে আসন সংখ্যার বিচারে এনডিএ-র মধ্যে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে তিপ্রামথা।
সব মিলিয়ে, ত্রিপুরার TTAADC এলাকার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে এনডিএ-র বড় সাফল্য সামনে এসেছে। তিপ্রামথা, বিজেপি এবং আইপিএফটি- তিন শরিক মিলিয়ে ৭৭.৫০ শতাংশ ভোট এবং ৪,৩২০টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে তিপ্রামথা একাই জিতেছে ৩,৪২৮টি আসন। বিজেপি পেয়েছে ৮৫৯টি, সিপিআইএম ৮৭টি, নির্দল ১৭৩টি এবং কংগ্রেস ১৪টি আসন। ৮১ শতাংশের বেশি ভোটদানের হারও দেখিয়ে দিয়েছে এই নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ কতটা ছিল। দীর্ঘ ১০ বছর পর হওয়া এই ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ফলাফল আগামী দিনে ত্রিপুরার এডিসি এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর।