ভোটচুরি নিয়ে এবার খোলা চিঠি ৪২জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির!

‘ভোটচুরি’ নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের আবহে এ বার সরব ৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।

নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা-সহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ‘পরিকল্পিত ভাবে দুর্বল করার চেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করে বৃহস্পতিবার একটি কড়া ভাষার খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তাঁদের সতর্কবার্তা, মানুষের আস্থা নষ্ট হলে গণতন্ত্রের ভিতই নড়ে যেতে পারে। ‘‘ব্যালটের অর্থ হারালে রাস্তাই তার জায়গা নেয়’’, চিঠিতে মন্তব্য করা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বক্তব্য, প্রমাণ ছাড়াই বার বার ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তোলা এবং সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ‘চোর’ বলে দাগিয়ে দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। তাঁদের কথায়, প্রতিষ্ঠান নিয়ে সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু ‘অবমাননা’ নয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘আস্থাই গণতন্ত্রের মুদ্রা।’’ নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা অভিযোগকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমালোচনা হিসাবে দেখছেন না তাঁরা। বরং এর পিছনে ‘স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক শক্তির পরিকল্পিত প্রচেষ্টা’ রয়েছে বলেই দাবি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের। এমন প্রচার চলতে থাকলে অরাজক এবং প্রান্তিক শক্তি সেই শূন্যস্থান দখল করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা।

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR-এর পক্ষেও সওয়াল করেছেন চিঠির স্বাক্ষরকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা পরিষ্কার ও নির্ভুল রাখার জন্য SIR একটি আইনসম্মত প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে কংগ্রেসের নাম না করে কটাক্ষ করা হয়েছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যে দল দীর্ঘ সময় দেশ শাসন করেছে, তারা কী ভাবে সেই নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলতে পারে, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা বার বার ক্ষমতায় এসেছে?

চিঠিতে আরও অভিযোগ, ভোটচুরির দাবি সংবাদমাধ্যমের সামনে করা হলেও আদালতে তার পক্ষে হলফনামা বা প্রমাণ পেশ করা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে আদালতের রায় পছন্দ না হলে বিচারব্যবস্থাকেই আক্রমণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত, পঙ্কজ মিত্তল-সহ বিভিন্ন হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিরা।

তবে এই অবস্থানের বিপরীত সুরও শোনা গিয়েছে। প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রোহিন্টন ফালি নারিম্যান ভোটাধিকার ‘বিপন্ন’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ারও বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সাংবিধানিক ব্যবস্থাকেই অস্বীকার করার শামিল।