দিল্লিতে বাতিল একাধিক ট্রেন, সীমান্তে কড়া নজরদারি

১০ অক্টোবর সিজেপির আন্দোলনে সায় দেয়নি দিল্লি পুলিশ। তবুও ‘ভোটচুরি’ বিরোধী আন্দোলনে অনড় ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ। এই আবহে দিল্লিতে রেল-বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রবল। বাতিল একাধিক ট্রেন। সীমান্তে কড়া নজরদারিও চালানো হচ্ছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

‘ভোটচুরি’র অভিযোগে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করল রেল এবং দিল্লি পুলিশ। যানজটের আশঙ্কায় শনিবার সকালে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা এমন একাধিক মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর আটটি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।

রেল সূত্রে খবর, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা যে সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের, সেগুলি বাতিল করা হবে। ৯ অক্টোবর দুপুর ২টোর পরে যাত্রা শুরু করে পরের দিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই দুই স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল যে ট্রেনগুলির, সেগুলি যাত্রার সূচনাস্থল থেকেই বাতিল থাকবে। গোয়েন্দা তথ্য এবং যান চলাচল সংক্রান্ত সতর্কবার্তার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে রেল। বিক্ষোভ ঘিরে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ভোগ এড়াতেই এই পদক্ষেপ।

এ দিকে, শুক্রবারই বাতিল করা হয়েছে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস থেকে হজরত নিজামুদ্দিনগামী রাজধানী এক্সপ্রেস (২২২২১)। পশ্চিম-মধ্য রেলের ভোপাল ডিভিশন জানিয়েছে, পরিচালনগত কারণে এই সিদ্ধান্ত। ভোপাল থেকে যাঁদের ওই ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তাঁদের বিকল্প যাত্রাপথের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের আগে গাজিপুর, চিল্লা, টিকরি, সিংঘু, গুরগাঁও, কপাসেরা, লোনি এবং বদরপুর সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে দিল্লি পুলিশ। রাজধানীতে ঢোকা ও বেরোনোর পথে যান চলাচলের উপরেও নজর রাখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের জবাবদিহির দাবিতে যন্তর মন্তরে সিজেপি-র বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে আবেদন করা এবং অতীতে নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারাও বলবৎ রয়েছে। সেই বিধি ভাঙলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। ফলে শনিবারের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ও যাতায়াত—দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে সতর্কতা।