ধরপাকড়ের পর শর্তসাপেক্ষে মুক্ত অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষরা

প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই আটক হতে হয় পুলিশি ঘেরাটোপে। শনিবার সকাল থেকে তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর রবিবার সকালে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এগ্‌জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানোর পর তাঁদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শনিবার রাতে মুক্তি পেয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও। তবে এই মুক্তির মধ্য দিয়ে কি বিতর্কের অবসান হল, নাকি আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছে সিজেপি? আপাতত সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

তিন নেতার মুক্তির খবর সামনে আসতেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি জারি করে সিজেপি। দলের এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আরশোলারা কখনও মরে না। দলের দাবি, শেষ পর্যন্ত অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিংহ জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ করতে পারবেন না তাঁরা। এই শর্তেই তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচিতেই যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি পৌঁছন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ তাঁদের বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অভিযোগ, বিমান অবতরণের পরই উড়ানের ভিতরে পৌঁছে তাঁদের আটক করে পুলিশ। সেই সময়ের ঘটনাও ক্যামেরাবন্দি হয়। এরপর তিন নেতাকে বিমান থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশি পদক্ষেপের পর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তিন নেতার বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁদের আটক করে রাখার ঘটনায় সিজেপি তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তবে সেই আইনি পদক্ষেপের মধ্যেই রবিবার সকালে তিন নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এগ্‌জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়। এরপর তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে প্রায় ২৪ ঘণ্টার আটকপর্বের অবসান ঘটে। তবে কেন তাঁদের বিমান থেকে আটক করা হয়েছিল ও গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও অব্যাহত। রবিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়া পেয়েই ফের হুঙ্কার সিজেপি নেতাদের। জ্ঞানেশকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা চলছে। এতেই প্রমাণ হয় রাজার প্রাণ ভোমরা জ্ঞানেশই। লড়াই আরও জোরদার হবে। হুঁশিয়ারি সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কার।