ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের পথে বিরোধীরা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
সোমবার দিল্লিতে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগোয় মিছিল। এসআইআর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধীদের।
মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। মান্ডি হাউস এবং বরখম্বা রোড-সহ বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হন হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী ও নাগরিক অধিকারকর্মী। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারিকেড তৈরি করে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী। মিছিলে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন দাবি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
এ দিন রাহুলের আইনজীবীদের একটি দল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে পৌঁছয়। সরাসরি উপস্থিত হয়ে রিট পিটিশন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়েছে বলে খবর। শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রিতে আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় বিকেল সাড়ে ৪টে পেরিয়ে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত সময় চেয়েছে রাহুলের আইনি দল।
মিছিল চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খড়্গে। তাঁর প্রশ্ন, ফর্ম ৬ ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছিল? বিপুল সংখ্যায় আগে থেকে ছাপানো ফর্ম ৭-এর নেপথ্যেই বা কারা? মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ, “জ্ঞানেশ কুমার কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন?”
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানান কংগ্রেস সাংসদ অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য প্রধান বিচারপতি যদি বিরোধীদের সঙ্গে দেখা না করেন, তা হলে তাঁরা কোথায় যাবেন?
অন্য দিকে, অখিলেশের অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশেই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। উত্তরপ্রদেশে এসআইআর শেষ হওয়ার পরেও ভোটার তালিকায় একাধিক নাম রয়েছে বলে দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল অর্থ খরচ এবং আধিকারিক নিয়োগের পরেও যদি তালিকার ত্রুটি না মেটে, তা হলে এই প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিরোধীদের এই অভিযোগ ঘিরে নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর আরও তীব্র হল।