বায়ুসেনার প্রথম মহিলা ‘ফাইটার কমব্যাট লিডার’ ভাবনা!

বাবার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁর। কিন্তু বাবার অপূর্ণ ইচ্ছেকেই যেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন মেয়ে। ভারতীয় বায়ুসেনার ইতিহাসে নজির গড়লেন বিহারের ভাবনা কান্থা। দেশের প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসাবে ‘ফাইটার কমব্যাট লিডার’ (এফসিএল) যোগ্যতা অর্জন করলেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বিহারের দারভাঙা জেলার বাউর গ্রামে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

গত অগস্টে গোয়ালিয়রের ট্যাকটিকস অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্টে (টিএসিডিই) ২০ সপ্তাহের কঠোর প্রশিক্ষণ সফল ভাবে সম্পন্ন করেন বায়ুসেনার এই স্কোয়াড্রন লিডার। বায়ুসেনার অন্যতম কঠিন এই প্রশিক্ষণে সুযোগ পান অল্প কয়েক জন ফাইটার পাইলট। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণকে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘টপগান’ কোর্সের সমতুল্য বলে মনে করা হয়। এই যোগ্যতা অর্জন শুধু যুদ্ধবিমান ওড়ানোর দক্ষতার স্বীকৃতি নয়, বরং উন্নত আকাশযুদ্ধের কৌশল এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতারও প্রমাণ।

ছোট থেকেই আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখতেন ভাবনা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ছোট থেকে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন ছিল আমার। আকাশে জেট দেখলে তার পিছনে দৌড়তাম। জানতামই না যে মেয়েরা পাইলট হতে পারে না। তাই মনে হয়েছিল, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে বিমান ওড়াতে পারব।”

ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএসের চাকরি ছেড়ে এএফসিএটি পরীক্ষার মাধ্যমে বায়ুসেনায় যোগ দেন ভাবনা। তবে প্রথম দিকে মহিলাদের ফাইটার বিভাগে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ ছিল না। ২০১৬ সালে সেই নিয়মে পরিবর্তন এলে অবনী চতুর্বেদী ও মোহনা সিংয়ের সঙ্গে দেশের প্রথম তিন মহিলা ফাইটার পাইলটের দলে জায়গা করে নেন তিনি।

এর পরেও থেমে থাকেননি ভাবনা। ২০১৮ সালে মিগ-২১ বাইসনে প্রথম একক উড়ান দেন। ২০১৯ সালে দিনের বেলায় কমব্যাট মিশনের অনুমোদন পাওয়া প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হন তিনি। ২০২০ সালে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পান নারী শক্তি পুরস্কার। বর্তমানে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান ওড়ান ভাবনা।

তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্যে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করেছেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পেরিয়ে ভাবনার এই জয় এখন দেশের মেয়েদের কাছে নতুন অনুপ্রেরণা।