সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ কলকাতা হাই কোর্টে

প্রত্যেকবার দুর্গাপুজোয় সজল ঘোষের সন্তোষমিত্র স্কোয়ার এবং সুজিত বসুর শ্রীভূমির পুজোর টক্কর চলে। কিন্তু এবার সেই প্রতিযোগিতা কার্যত অমিল। কারণ শারদোৎসবের আবহেও জামিন পাচ্ছেন না সুজিত বসু। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গেল।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। পুরসভায় বেআইনি নিয়োগের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন এবং চাকরিপ্রার্থীদের সুপারিশ করার অভিযোগও তুলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

এই মামলার শুনানি এর আগে করেছিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও অবশ্য তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। বিচারপতির অভিযোগ, তাঁর অনুপস্থিতিতে এক জুনিয়র আইনজীবী তাঁর চেম্বারে গিয়ে মামলার ফাইল চেয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরেই মামলা ছেড়ে দেন তিনি। পরে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। মঙ্গলবার সেখানেই জামিনের আবেদন খারিজ হল।

জামিনের বিরোধিতা করে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে দাবি করেন, পুরসভায় বিপুল সংখ্যক প্রার্থীকে বেআইনি ভাবে নিয়োগের পিছনে সুজিতের ভূমিকা ছিল। তাঁর নির্দেশে ৩৪০ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রত্যেকের কাছ থেকে ছ’লক্ষ টাকা করে নেওয়া হত বলেও দাবি করেন তিনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, সুজিতের নামে ৮.৮ কোটি টাকার হদিস মিলেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকা স্থানান্তরিত হয়েছিল বলে অভিযোগ।

ইডির দাবি, অভিযুক্ত অয়ন শীলের বয়ানেও সুজিতের নাম উঠে এসেছে। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ১৫২ জন প্রার্থীকে সুপারিশ করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী, এমনই অভিযোগ তদন্তকারীদের।

অন্য দিকে, সুজিতের হয়ে সওয়াল করে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান, প্রথম চার্জশিটে তাঁর মক্কেলের নাম ছিল না। পরে অতিরিক্ত চার্জশিটে নাম যুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগের দায়িত্বেও তিনি ছিলেন না বলে দাবি করেন সিংভি। তাঁর আরও যুক্তি, ২০২১ সালের ঘটনার জন্য ২০২৬ সালে গ্রেফতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এত দেরিতে এফআইআর করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে আদালত জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেনি।