ট্রাম্প জানান, রাশিয়া আমেরিকা-সহ বিশ্ববাজারে তিন লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী সময়ে দশ লক্ষ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে মস্কো।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার জন্য ভারত, চিন-সহ একাধিক দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অথচ সেই রাশিয়ার সঙ্গেই জ্বালানি চুক্তি করে ফেলেছে আমেরিকা। এই দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠতেই নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, আমেরিকার স্বার্থে তিনি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। বরাবরের মতোই তাঁর নীতি, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’।
নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়ো খবর’ ছড়ানোর অভিযোগে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অতীতে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কিনলেও সংবাদমাধ্যম সেই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা করেনি। ট্রাম্পের কথায়, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন জ্বালানির জন্য রাশিয়াকে ২৫০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। অথচ ভুয়ো খবরের সংবাদমাধ্যম সেই খবরের ধারেকাছেও ঘেঁষতে চায় না।” নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লেখেন, মার্কিন জনগণের স্বার্থেই সঠিক পদক্ষেপ করেছেন তিনি।
শুক্রবার ট্রাম্প জানান, রাশিয়া আমেরিকা-সহ বিশ্ববাজারে তিন লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী সময়ে দশ লক্ষ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে মস্কো।
আমেরিকায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে এবং ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে এই সমঝোতা করেছেন ট্রাম্প, এমনই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি উঠেছে খোদ ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অন্দরেও। চার জন রিপাবলিকান-সহ মোট ছ’জন মার্কিন সেনেটর প্রশাসনকে চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু যখন অব্যাহত, তখন মস্কোকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করা উচিত নয় ওয়াশিংটনের। ফলে রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নীতি ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি ঘরোয়া রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে।