সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-র দুই কর্মী সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির প্রতিবাদে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নামা তরুণ প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা চলছে। এই পদক্ষেপকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
বুধবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে মমতা লেখেন, “আমরা এবং আমাদের আগের বহু প্রজন্ম গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। সেই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।” সৌরভ এবং আশুতোষের গ্রেফতারির নিন্দা করে তাঁর বক্তব্য, “এই সময় আমাদের সকলের একজোট হয়ে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার শপথ নেওয়ার। এটা একটা গোটা প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা। এই পদক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না। সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার কখনও বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।”
এর পরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। বাংলায় তাঁর দলের ১৪ হাজার মানুষ পুলিশি এবং রাজনৈতিক অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার কথায়, ‘মানুষের দ্বারা, মানুষের জন্য, মানুষের সরকার’— এই নীতি যে সরকার ভুলে গিয়েছে, তার শেষ এগিয়ে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “তোমাদের দিদি আজও তোমাদের পাশে রয়েছে, চিরকাল থাকবে। এসো, একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আমাদের মাতৃভূমি ভারতকে রক্ষা করি।”
উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাচ্ছে সিজেপি-সহ বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ঢোকার চেষ্টা করার অভিযোগে সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্ক শিন্দেকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি প্রত্যাহারের পরেও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভিতর দিয়ে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা।
পরে সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। অজিঙ্ককে ছ’মাসের জন্য শান্তি ও সদাচরণ বজায় রাখার মুচলেকা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্য দিকে, সিজেপির আইন বিভাগের প্রধান রত্না সিংয়ের অভিযোগ, আটক হওয়ার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা কর্মীদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে কেন্দ্রের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।