এক দশকে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। ধান উৎপাদন ও রফতানিতে বিশ্বে প্রথম স্থানে ভারত। এ বার বিশ্বের ‘খাদ্যভাণ্ডার’ হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় দেশ। বুধবার দিল্লিতে কৃষি পড়ুয়াদের এক সম্মেলনে এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। তাঁর বক্তব্য, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিক্ষেত্রে আরও উন্নতি ঘটাতে হবে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
দিল্লির পুসায় ‘অ্যাগ্রিভিশন’-এর দশম জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়ে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের খাদ্যশস্য উৎপাদন ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। ধান উৎপাদন ও রফতানিতে দেশ বিশ্বে প্রথম এবং গম উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এক সময়ে পিএল-৪৮০ কর্মসূচির আওতায় বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হত ভারতকে। এখন কৃষকদের পরিশ্রম এবং আধুনিক কৃষিনীতির হাত ধরে দেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

শিবরাজের কথায়, “কৃষকদের জীবনযাত্রার আরও উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি ভারত শুধু নিজের দেশবাসীর মুখে অন্ন তুলে দেবে না, বিশ্বের খাদ্যভাণ্ডারও হয়ে উঠবে।” তবে সেই লক্ষ্য পূরণে উৎপাদনের পাশাপাশি ফসলের বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের উপস্থিতি বাড়ানোর উপরেও জোর দেন তিনি।
কৃষি শিক্ষার মান নিয়েও সরব হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর আশ্বাস, কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রীদের ডিগ্রি যাতে শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে মূল্যহীন হয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করবে সরকার। কৃষি শিক্ষার সমস্যা এবং কৃষকদের কল্যাণে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির কথাও জানান তিনি। বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও পড়ুয়াদের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব চেয়ে আগামী ১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে তাঁদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার আশ্বাস দিয়েছেন শিবরাজ।

কৃষকদের আয় বাড়াতে বিকল্প চাষের উপরেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, গড়ে ০.৯৬ হেক্টর জমির মালিকানার বাস্তবতায় শুধু একটি ফসলের উপর নির্ভর না করে ফল, সব্জি, ঔষধি গাছ, পশুপালন, মৎস্যচাষ, মৌমাছি পালন ও প্রাকৃতিক চাষে জোর দেওয়া প্রয়োজন। কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং রোবোটিক্সের ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী।