নারীশক্তি থেকে সেনাদের সম্মান, ‘সিঁদুর’ থিমে নজর কাড়ছে উত্তরপল্লী

কোতুলপুর উত্তর পল্লী সার্বজনীন দুর্গা উৎসব কমিটির ব্যবসায়ী বৃন্দের এবছরে পুজোর থিম সিঁদুর। শারদোৎসবের আনন্দে সেজে উঠেছে চারপাশ, আর সেই উৎসবের আবহে সনাতন সংস্কৃতি, নারীশক্তির মহিমা এবং দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধার এক অপূর্ব মেলবন্ধন তুলে ধরেছে উত্তরপল্লী দুর্গোৎসব কমিটির ব্যবসায়ীবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত ৩৭তম বর্ষের দুর্গোউৎসব। এবারের দুর্গাপুজোর মূল ভাবনা বা থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘সিঁদুর’। ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতিতে সিঁদুর, শাখা ও পলা শুধু সাজসজ্জার উপকরণ নয়, বরং বাঙালি নারীর ঐতিহ্য, দাম্পত্যের মঙ্গলকামনা, বিশ্বাস এবং নারীশক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। সেই সাংস্কৃতিক আবেগকে কেন্দ্র করেই অত্যন্ত সুনিপুণ পরিকল্পনা ও নান্দনিক মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবারের পুজোর মূল ভাবনা।

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা

মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে সিঁদুর, শাখা ও পলার মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। তবে শুধু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই পুজোর ভাবনা; মণ্ডপের শীর্ষভাগে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় গৌরবের প্রতীকী বার্তা। দেশের সীমান্ত রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বীর সেনাসদস্য এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে এই উপস্থাপনার মাধ্যমে।

একদিকে সিঁদুর, শাখা ও পলার মধ্য দিয়ে ভারতীয় নারীর ঐতিহ্য ও শক্তির প্রকাশ, অন্যদিকে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় আত্মনিয়োগকারী সেনাদের প্রতি সম্মান—এই দুই ভাবনার সমন্বয়ে উত্তরপল্লীর এবারের দুর্গোৎসব পেয়েছে এক বিশেষ মাত্রা।

কমিটির প্রেসিডেন্ট অনুপ কুমার গড়াই জানান, এবারের পুজোর বাজেট প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি। তবে তাঁদের কাছে পুজোর সাফল্য শুধুমাত্র বাজেট, আলোকসজ্জা কিংবা মণ্ডপের জাঁকজমকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দর্শনার্থীরা যাতে মণ্ডপে এসে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, পুজোর প্রতিটি মুহূর্তে উৎসবের আবহ অনুভব করতে পারেন এবং তাঁদের সহযোগিতা ও ভালোবাসা যাতে সার্থক হয়ে ওঠে, সেটাই কমিটির প্রধান লক্ষ্য।

দীর্ঘ ৩৭ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে উত্তরপল্লী দুর্গোৎসব কমিটির এই উদ্যোগে যেমন ফুটে উঠেছে বাঙালির চিরাচরিত শারদীয় আবেগ, তেমনই প্রকাশ পেয়েছে নারীশক্তির মর্যাদা, মাতৃভাবনা এবং দেশপ্রেমের বার্তা। সব মিলিয়ে, ‘সিঁদুর’ থিমকে কেন্দ্র করে উত্তরপল্লীর এই দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শক্তি ও শ্রদ্ধার এক অনন্য প্রকাশ, যা দর্শনার্থীদের কাছে শুধু পুজো দেখার অভিজ্ঞতাই নয়, বরং এক গভীর সাংস্কৃতিক অনুভূতিরও সাক্ষী হয়ে উঠতে চলেছে।পুজোটি শারদ সম্মানে ভূষিত হয়েছে।