আসল তৃণমূল কে, মুখোমুখি মমতা ও ঋতব্রত শিবির!

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে বিবাদ এ বার নির্ণায়ক পর্যায়ে। আগামী ৩০ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে মুখোমুখি বসতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের দুই শিবির। বিকেল সাড়ে তিনটেয় এই শুনানি হওয়ার কথা। কোন পক্ষের হাতে থাকবে দলের আসল নাম এবং প্রতীক, কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা

দলীয় নাম ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং জোড়াফুল প্রতীকের স্বত্ব নিয়ে দুই শিবিরের এই লড়াই এখন শুধু রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এই বিবাদের নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, চার সপ্তাহের মধ্যে এই বিতর্কের নিষ্পত্তি করতে হবে কমিশনকে।

সেই নির্দেশ মেনেই দুই পক্ষকে নিজেদের দাবির সপক্ষে যাবতীয় নথিপত্র এবং হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুই শিবিরকে আলাদা আলাদা ভাবে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এ বারই প্রথম দুই পক্ষকে একই দিনে মুখোমুখি বসিয়ে শুনানি করতে চলেছে কমিশন। ফলে ৩০ অক্টোবরের শুনানি রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই দিনই কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে কমিশন? সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও শুনানির দিনেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এই বিবাদের প্রভাব পড়েছে সংসদেও। লোকসভার স্পিকারের দফতর থেকে দলীয় বিভাজনের জেরে কাকলী ঘোষ দস্তিদার এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট সাংসদেরা। তাঁদের আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে হবে।

অর্থাৎ, অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে নির্বাচন কমিশন ও লোকসভার স্পিকারের দফতর—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে তৃণমূলের দুই শিবির। দলের নাম ও প্রতীকের অধিকার শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, তার উপর নির্ভর করছে রাজনৈতিক পরিচয়ের লড়াইয়ের পরবর্তী গতিপথ।