বাড়িতে হামলার ঘটনার পর এবার ফোনে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুললেন বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকী, তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সমাজমাধ্যমে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
বিকাশরঞ্জনের দাবি অনুযায়ী, গতকাল রাত ১০টা ৪৭ মিনিট নাগাদ একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। পেশাগত কাজ এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের সূত্রে প্রতিদিনই বহু মানুষের ফোন পান তিনি। সেই কারণেই নম্বরটি অপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও ফোনটি ধরেছিলেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ, ফোনের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে সুকান্ত মণ্ডল বলে পরিচয় দেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকি দেন বলে দাবি বিকাশরঞ্জনের। পাশাপাশি, তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়েও অশালীন ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিকাশরঞ্জন। এই ঘটনার নেপথ্যে হিন্দু মৌলবাদী শক্তির যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ করেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী। নিজের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে বিকাশরঞ্জন আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবেন তিনি। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
সম্প্রতি বাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সেই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে একাধিক থানায় আইনজীবীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রীও। অভিযোগ, বিকাশরঞ্জনের পোস্ট থেকে বিতর্কিত শব্দবন্ধ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পোস্ট মুছে ফেলা বা ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটি বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বলে দাবি। তবে বিকাশরঞ্জন সেই নির্দেশ মানেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে ফোনে খুনের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী। সেই পোস্টেও ‘হিন্দু মৌলবাদী’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন তিনি। ফলে পুরনো বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই বিষয়টি নিয়ে ফের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।