বিরোধীদের দাবি মানল কমিশন, এ বার মেশিন রিডেবল ভোটার তালিকা!

এসআইআর নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্কের আবহে বিরোধীদের আরও এক দাবি মেনে নিল নির্বাচন কমিশন। এ বার থেকে রাজনৈতিক দলগুলিকে মেশিন রিডেবল পিডিএফ ফরম্যাটে ভোটার তালিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ফলে ভোটার তালিকায় নির্দিষ্ট নাম বা তথ্য খুঁজে বের করা আরও সহজ হবে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের জয় হিসাবেই দেখছে বিরোধী শিবির। যদিও এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই সরব কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলিকে যে ভোটার তালিকা দেওয়া হয়, তা মূলত পিডিএফের ছবির মতো ফরম্যাটে থাকে। সেখানে কোনও নির্দিষ্ট নাম বা তথ্য সরাসরি সার্চ করা যায় না। লেখা কপি করে অন্যত্র ব্যবহার করাও সম্ভব হয় না। ফলে বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করতে সমস্যায় পড়তে হয় রাজনৈতিক দলগুলিকে। বিরোধীদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থার কারণে ভুয়ো ভোটার শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এই দাবি অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস। রাজনৈতিক দলগুলিকে মেশিন রিডেবল ভোটার তালিকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল তারা। সেই সময় ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে ওই দাবি মানতে চায়নি নির্বাচন কমিশন। এ বার বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনা ও আন্দোলনের আবহে সেই অবস্থান বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

মেশিন রিডেবল তালিকা চালু হলে রাজনৈতিক দলগুলি নির্দিষ্ট নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য উপলব্ধ তথ্য দ্রুত খুঁজে বার করতে পারবে। ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজও তুলনায় সহজ হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার কমিশন জানিয়েছে, নভেম্বর থেকে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্পেশাল সামারি রিভিশন শুরু হবে। নতুন ভোটারের নাম তোলা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করাই এই প্রক্রিয়ার অন্যতম লক্ষ্য। এই ঘোষণাকেও নিজেদের সাফল্য বলে দাবি করছে বিরোধীরা। এসআইআর নিয়ে সংঘাতের মধ্যেই কমিশনের পরপর দু’টি সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।