নরেন্দ্র মোদী সরকারের কট্টর বিরোধী তিনি। কিন্তু সেই বিরোধিতার সূত্রেই যে কোনও বিদেশি ব্যক্তিত্বের মন্তব্যকে সমর্থন করবেন, এমন নয়। মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্কের ভারত-বিরোধী মন্তব্যের আবহে স্পষ্ট করে দিলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁর বক্তব্য, মোদীর বিরোধিতা করলেও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এক জন বিদেশি ব্যবসায়ীর কটাক্ষ মেনে নেওয়া যায় না। ওয়েইসির এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, তবে কি এ বার অবস্থান বদলাচ্ছেন হায়দরাবাদের সাংসদ?

সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডলে একের পর এক পোস্ট করে ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাস্ক। প্রশ্ন তোলেন, ভারত কি আম্বানিরা চালাচ্ছেন? সেই মন্তব্যের জবাবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শিল্পপতি গৌতম আদানিকে একসঙ্গে দেখা যায়। কারও নাম না করে রাহুল লেখেন, ‘আর এক জনকেও এ বার খুঁজে পাবেন।’ অর্থাৎ, ভারতের ‘বস’ হিসাবে আদানির দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
রাহুলের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এক বিদেশি ব্যবসায়ীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতার এমন প্রতিক্রিয়া কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। মাস্কও রাহুলের পোস্টের জবাব দিয়েছেন। এর ফলে দু’জনের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ওয়েইসি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রাহুলের পথে হাঁটবেন না। তাঁর কথায়, “আমরা সব সময় নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে। সেটাই থাকব। কিন্তু এলন মাস্ক কী করে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন? আমাদের সম্পদ কী ভাবে ব্যবহার করব, সেটা আমাদের ব্যাপার। এই ফর্সা লোকটা কেন বসে বসে আমাদের নির্দেশ দেবে?”
একই সঙ্গে বিজেপিকেও নিশানা করেছেন ওয়েইসি। তাঁর কটাক্ষ, “দুঃখের বিষয় হল, বিজেপি কেন সাদা চামড়া দেখলেই ভয় পেয়ে যায়? কিছু ফর্সাদের পেট ভরাতে গিয়ে আমাদের দেশের নাগরিকদের পেটে যেন লাথি না পড়ে।”
মোদী সরকারের বিরোধিতা বজায় রেখেও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মাস্কের সমালোচনা করেছেন ওয়েইসি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন চর্চা, রাজনৈতিক বিরোধিতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কি নতুন বার্তা দিতে চাইছেন এআইএমআইএম প্রধান?