পাকিস্তানের পাশে ভারত! বিতর্কে মোদী-শাহ!

যুদ্ধ হলে ভারতের পাশে কে? আর পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ হলে, ভারত দাঁড়াবে কার পাশে? এই প্রশ্ন ঘিরেই এবার বিতর্কের কেন্দ্রে রাজস্থান বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোর।

মন্তব্য সামনে আসতেই বিজেপিকে নিশানা কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির। প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পাকিস্তানের পাশে? এমন মন্তব্যকে দেশবিরোধী বলে আক্রমণ বিরোধীদের। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে বিতর্ক কেন?

মদন রাঠোরের এই বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু সমালোচনা। প্রশ্ন উঠতে থাকে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে দাঁড়িয়ে এমন মন্তব্য কেন রাজস্থান বিজেপির রাজ্য সভাপতির? বিশেষ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলায় মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে যখন বারবার সরব হয়েছে ভারত, তখন এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য কী?

মদন রাঠোরের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানায় কংগ্রেস। দলের জাতীয় মুখপাত্র শামা মহম্মদ তাঁর বক্তব্যকে দেশবিরোধী বলে আখ্যা দেন। সমাজমাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি যদি আমেরিকা-পাকিস্তান যুদ্ধের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবস্থান কী? শুধু তাই নয়, মদন রাঠোরের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন শামা।

একটি বক্তব্যকে ঘিরে এখন বিজেপি বনাম বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত। বিরোধীদের প্রশ্ন, পাকিস্তান নিয়ে বিজেপির ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে রাজস্থানের রাজ্য সভাপতির এই বক্তব্যের সামঞ্জস্য কোথায়? যদিও বিরোধীদের এই অভিযোগ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে।

তবে বিতর্কের পরদিনই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন মদন রাঠোর। তাঁর দাবি, তিনি যুদ্ধের কথা বলেননি, বরং ক্রিকেট ম্যাচের প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শত্রুতার। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সেই দেশের সঙ্গে কীভাবে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখা সম্ভব, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিতর্কের মুখে পড়ে পরের দিনই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা মদন রাঠোরের। তাঁর দাবি, যুদ্ধের প্রসঙ্গ নয়, তিনি আসলে ক্রিকেট ম্যাচের কথা বলছিলেন। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শত্রুতার। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সেই দেশের সঙ্গে কীভাবে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখা সম্ভব, সেই প্রশ্নই তোলেন তিনি।

একদিকে আমেরিকা-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য, অন্যদিকে সেই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে ক্রিকেটের ব্যাখ্যা। মাঝখানে বিজেপি বনাম কংগ্রেস-আপের রাজনৈতিক সংঘাত। মদন রাঠোরের বক্তব্যের কোন প্রেক্ষাপট ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাঁর মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় স্বার্থ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে। বিরোধীদের আক্রমণ, বিজেপির পাল্টা যুক্তি। সব মিলিয়ে এখন নজর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার দিকে। প্রতিবেশী বলেই কি যে কোনও পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা যায়? নাকি আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করাই একজন রাজনৈতিক নেতার দায়িত্ব? এই প্রশ্নেই আপাতত সরগরম রাজনীতির ময়দান।