পুজোর মণ্ডপের পাশে বইয়ের স্টল ঘিরে কেন এই সংঘাত? রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই কি এবার বইয়ের স্টল পর্যন্ত পৌঁছে গেল? অভিযোগের তির কার দিকে? আর এই গোটা বিতর্কে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই বা কী প্রশ্ন উঠছে?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
বইয়ের সঙ্গে বুলডোজারের লড়াই। একদিকে বই, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংঘাত। দুর্গাপুজোর আবহে যাদবপুর থেকে নাগেরবাজার বামেদের বুকস্টল ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল কলকাতা ও শহরতলির একাধিক এলাকায়। কোথাও বুকস্টল সরানোর উদ্যোগ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বাম নেতৃত্বের বচসা, কোথাও আবার বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ। নাগেরবাজারে সিপিএম ও এবিভিপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগও সামনে এসেছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পুজোর মণ্ডপের পাশে বইয়ের স্টল ঘিরে কেন এই সংঘাত? রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই কি এবার বইয়ের স্টল পর্যন্ত পৌঁছে গেল? অভিযোগের তির কার দিকে? আর এই গোটা বিতর্কে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই বা কী প্রশ্ন উঠছে?
যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড। শনিবার সন্ধ্যা। দুর্গাপুজোর সপ্তমী। সেই উৎসবের আবহেই সিপিএমের অস্থায়ী বুকস্টল ঘিরে শুরু হয় উত্তেজনা। অভিযোগ, বুকস্টল সরানোর নির্দেশ নিয়ে সেখানে হাজির হয় পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকেরা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় স্টল সরানোর জন্য বুলডোজ়ার আনা হলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত-সহ একাধিক বাম নেতা।
বাম নেতৃত্বের প্রশ্ন, স্টল সরানোর নির্দেশ থাকলে তার লিখিত নোটিস কোথায়? কী আইনি ভিত্তিতে স্টল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
বামেদের দাবি, বুকস্টল বসানোর আগে প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। কর্পোরেশনে কর জমা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তাঁরা। তবে অনুমতি সংক্রান্ত এই দাবির পাশাপাশি প্রশাসনের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথির পূর্ণাঙ্গ যাচাই জরুরি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বুলডোজ়ারের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান বাম কর্মী-সমর্থকেরা। তৈরি হয় মানববন্ধন। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীতও। অর্থাৎ, যাদবপুরের ঘটনা শুধুমাত্র একটি বুকস্টল সরানোর প্রশ্নে আটকে থাকেনি। তা পরিণত হয়েছে প্রশাসনিক ক্ষমতা, অনুমতি এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে সংঘাতে।
যাদবপুরের উত্তেজনার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার নাগেরবাজারেও বামেদের বুকস্টল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাগেরবাজার মোড়ে সিপিএমের বুকস্টলকে কেন্দ্র করে সিপিএম এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপির কর্মীদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি হয়। এবিভিপির তরফে বুকস্টল ঘিরে দেশবিরোধী প্রচার এবং দেবী দুর্গাকে অপমান করার অভিযোগ তোলা হয়।
অন্যদিকে, বামেদের অভিযোগ, তাদের বইয়ের স্টল ভাঙচুর করা হয়েছে। বুকস্টল ঘিরে এই সংঘাতের ঘটনায় সিপিএম সদস্য সঞ্জয় দেবনাথকে আটক করে নাগেরবাজার থানার পুলিশ।
এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাত আরও বেড়েছে বিজেপিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে। বামেদের তরফে বিভিন্ন জায়গায় বুকস্টলে হামলা ও ভাঙচুরের জন্য বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। যাদবপুরের পাশাপাশি বারাসত এবং নাগেরবাজারের ঘটনাও সেই বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে।
বুকস্টল ভাঙচুর নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি এমনও অভিযোগ করেন যে, বিজেপিকে বদনাম করার উদ্দেশ্যে কেউ কেউ নিজেরাই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটাচ্ছেন।
ফলে একদিকে বামেদের অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির অস্বীকার-দুইয়ের মাঝখানে রয়েছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের প্রশ্ন।
যাদবপুরে বুলডোজার নিয়ে বুকস্টল সরানোর উদ্যোগ, নাগেরবাজারে সিপিএম ও এবিভিপির কর্মীদের সংঘর্ষ, আর বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ-সব মিলিয়ে পুজোর মরসুমে নতুন করে উত্তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ।