হিমাচলে পালিত পুলিশ স্মরণ দিবস,শহিদদের শ্রদ্ধার্ঘ্য

হিমাচল প্রদেশের সিমলার পুলিশ গ্রাউন্ডে বুধবার গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হল পুলিশ স্মরণ দিবস। কর্তব্য পালন করতে গিয়ে যেসব পুলিশকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করা হয় এই অনুষ্ঠানে। সাধারণ মানুষের জীবন, সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

হিমাচল প্রদেশ পুলিশের ডিজিপি অশোক তিওয়ারি অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন। রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও পুলিশকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যপাল কবিন্দর গুপ্ত তাঁর বার্তায় শহিদ পুলিশকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, পুলিশকর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখেন এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। যেসব পরিবার দেশের সেবায় তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তাঁদের ত্যাগ ও কষ্টের কথাও তিনি স্মরণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু তাঁর বার্তায় কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ দেওয়া পুলিশকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ আগামী দিনেও সকলকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও দক্ষ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব করে তোলার উপরেও তিনি জোর দেন। পাশাপাশি, শহিদ পুলিশকর্মীদের পরিবারের সাহস ও মানসিক শক্তির প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পুলিশের পক্ষ থেকে কুচকাওয়াজ করা হয়। শহিদ পুলিশকর্মীদের নাম পড়ে শোনানো হয় এবং তাঁদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর তাঁদের সম্মানে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শহিদদের নাম স্মরণ করার সময় উপস্থিত সকলে তাঁদের আত্মত্যাগের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার ও প্রিয়জনদের কথাও স্মরণ করেন। শহিদ পুলিশকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডিজিপি অশোক তিওয়ারি বলেন, “আজ আমরা যাঁদের স্মরণ করছি, তাঁদের প্রত্যেকের জীবন সাহসের উদাহরণ। তাঁদের পরিবার প্রিয়জনকে হারিয়ে যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা কখনও পূরণ করা সম্ভব নয়। এই সাহসী পুলিশকর্মীরা শুধু পুলিশের পোশাক পরেননি, তাঁরা নিজেদের কাজের মাধ্যমে পুলিশের সর্বোচ্চ আদর্শ তুলে ধরেছেন। অন্যদের নিরাপদে রাখার জন্য তাঁরা নিজেদের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন।”

ডিজিপি শহিদ পুলিশকর্মীদের পরিবারের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, দেশ যখন শহিদদের গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে, তখন তাঁদের পরিবার প্রতিদিন প্রিয়জনকে হারানোর কষ্ট সহ্য করে। তাই শহিদদের পরিবারের যত্ন নেওয়া, তাঁদের সম্মান রক্ষা করা এবং তাঁদের ভালো থাকার বিষয়টি পুলিশের কাছে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২১ অক্টোবর সারা দেশে পুলিশ স্মরণ দিবস পালন করা হয়। ১৯৫৯ সালের এই দিনে লাদাখের হট স্প্রিংস এলাকায় চিনা সেনাদের অতর্কিত হামলায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ১০ জন জওয়ান প্রাণ হারিয়েছিলেন। তাঁদের স্মরণেই এই দিনটি পালন শুরু হয়। পরবর্তীকালে দেশের সেবায় কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ দেওয়া সমস্ত পুলিশকর্মীকেও এই দিনে শ্রদ্ধা জানানো হয়।