বাজারে সস্তায় সহজলভ্য প্রোটিনের অন্যতম উৎস ব্রয়লার মুরগি। কিন্তু প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই মাংস রাখার আগে তার উৎপাদন পদ্ধতি এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবিতে ব্রয়লার মুরগির দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এবং তার সঙ্গে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা AMR-এর সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একটা দেশি মুরগি ৫০০ গ্রাম হতে ৬ মাস লাগে, আর একটা ব্রয়লার ২ কেজি হয়ে যায় মাত্র ৩৫ দিনে। এটা স্বাভাবিক বৃদ্ধি না।
কীভাবে বাড়ে?
এই জাতটার নাম Cobb 500, Ross 308। 70 বছর ধরে শুধু মোটা মুরগি বেছে বেছে ব্রিড করিয়ে এমন বানানো হয়েছে যাতে কম খেয়ে বেশি মাংস দেয়। এরা হাঁটতে পারে না, বসে বসে নিজের পায়খানার উপর থাকে। 30 হাজার মুরগি একটা ছোট ঘরে। রোগ যাতে না ছড়ায় তাই জন্য কি করা হয় জানেন?
ফার্মে কী ওষুধ দেওয়া হয়?
Colistin, Enrofloxacin, Tetracycline এর মতো মানুষের শরীরে ব্যবহার হওয়া শেষ চেষ্টার অ্যান্টিবায়োটিক রোজ খাওয়ানো হয়। যাতে মুরগি রোগে না মরে আর তাড়াতাড়ি মোটা হয়। ভারতে এই Colistin এর অপব্যবহার এত বেড়েছিল যে সরকার 2019 সালে পশু খাদ্যে এটা সম্পূর্ণ ব্যান করতে বাধ্য হয়েছে। WHO এটাকে Highest Priority Antibiotic বলেছে।
Toxics Link এর 2024 সালের রিপোর্টে তামিলনাড়ু আর অন্ধ্রপ্রদেশের 14 টা ফার্মের মধ্যে 11 টা ফার্মের লিটার আর জলে 15 টা দামি অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে Resistance Gene পাওয়া গেছে। মানে ওষুধ আর কাজ করছে না।
আগে মাংসের রং গোলাপি করার জন্য Roxarsone নামে আর্সেনিকযুক্ত ওষুধ ব্যবহার হতো। FDA লিভারে আর্সেনিক পাওয়ার পর EU 1999 সালেই ব্যান করে দিয়েছে, USA 2013 থেকে illegal।
এই মাংস খেলে আপনার শরীরে কী হচ্ছে?
উপকার একটাই, সামান্য প্রোটিন। কিন্তু তার সাথে ফ্রিতে কি কি পাচ্ছেন?
আপনার শরীরে আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না। এটাকে বলে AMR। আপনি যে মুরগি খাচ্ছেন তার ভেতরের অ্যান্টিবায়োটিক আপনার শরীরে ঢুকছে। এর ফলে পরে আপনার জ্বর, নিউমোনিয়া, ইউরিন ইনফেকশন হলে কোনো ওষুধে সারবে না। WHO বলছে প্রতি বছর 7 লাখ মানুষ এই কারণে মারা যায়, 2050 সালের মধ্যে এটাই হবে মানুষের মৃত্যুর এক নম্বর কারণ। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা সবচেয়ে ভয়ানক।
বাচ্চাদের হরমোনের বারোটা বাজছে! ছোট বাচ্চা অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাওয়া, 9-10 বছরের মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হয়ে যাওয়া, ছেলেদের দাড়ি দেরিতে গজানো, মেয়েদের PCOD, ছেলেমেয়েদের বন্ধ্যাত্ব বাড়ার পিছনে এই রোজ ব্রয়লার খাওয়া একটা বড় কারণ।
লিভার আর কিডনি শেষ! মুরগির শরীরে দেওয়া ওষুধের 70 ভাগ তার লিভার, কিডনি আর চামড়ায় জমা থাকে। আপনি যখন লেগ পিস, চামড়া, লিভার খান, সেই বিষ সরাসরি আপনার লিভারে যায়। রোজ খেলে Fatty Liver আর Creatinine বাড়বেই।
ক্যান্সারের ঝুঁকি! আর্সেনিক আর মুরগি বেশি আঁচে ভাজার সময় তৈরি হওয়া কেমিক্যাল সরাসরি কোলন ক্যান্সার আর ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। দেশী চড়ে বেড়ায় যে মুরগি সেখানে এত সমস্যা নেই।
তফাৎটা কোথায়?
দেশি মুরগি মাঠে চরে খায়, রোদে থাকে, দৌড়ায়। ওর শরীরে রোগ কম। ব্রয়লার কোনোদিন মাটিতে পা দেয় না, হাঁটতে পারে না নিজের ওজনে। ওর শরীরে পুঁজ জমে থাকে।
তাই যদি খেতেই হয়, মাসে একদিনের বেশি না। বাচ্চাকে তো ভুলেও রোজ দেবেন না। খেলে চামড়া, লিভার, লেগ পিস বাদ দিয়ে, ভালো করে ধুয়ে সেদ্ধ করে খান। সবচেয়ে ভালো হয় দেশি মুরগি, যেটা মাঠে চরে বেড়ায়, সেটা মাঝে মধ্যে খান।
সস্তায় প্রোটিন খেতে গিয়ে নিজের শরীরে এমন বিষ ঢোকাবেন না যার জন্য সারাজীবন অসুস্থতার শিকার হতে হয়! কেন এত ডাক্তারের কাছে ভিড় বুঝতে পারছেন?