এবার অধীররঞ্জন চৌধুরীর নিশানায় ফিরহাদ হাকিম। ২০২৪ এ অধীর রঞ্জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছিলেন ফিরহাদ হাকিম তা যেন সুদে আসলে ফিরিয়ে দিলেন অধীর চৌধুরী। ফিরহাদ হাকিমের গুপ্ত টাকার হদিশ জানলেন কীভাবে। ওয়াকফ সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অভিযোগ শেষে কিনা ফিরহাদের বিরুদ্ধে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
অধীর চৌধুরীর মন্তব্য নিয়ে রাজনীতির অলিন্দে ফের চর্চা শুরু। ফিরহাদ হাকিম সম্পর্কে কী এমন গোপন কথা জানেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। যার ভিত্তিতে সরাসরি আঙুল তুলেছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে।
তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। এখন শুধু বিধায়ক তকমাটাই আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ায় কম কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে না দিদির প্রিয় ববিকে। এমনকি এলাকায় তাঁর নামে গদ্দার লেখা পোস্টারও পড়েছে। রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে ভালো নেই কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। এবার কিনা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কটাক্ষের মুখে পড়তে হল ফিরহাদকে। ডেমোক্রাটিক তৃণমূল শিবিরের থাকলেও ফিরহাদ হাকিমকে বিজেপি নেতা বলে কটাক্ষ করেছেন অধীরবাবু। এত তো শুধু শুরু। টাকা পাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরীর। কীসের ভিত্তিতে অধীররঞ্জন চৌধুরী দাবি করছেন, যে ফিরহাদ হাকিম হাওয়ালার মাধ্যমে দুবাইয়ে টাকা পাচার করেছেন।
ফিরহাদ হাকিম ও অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বাগযুদ্ধ নতুন কিছু নয়। রাজনীতির মঞ্চে একে অপরকে দোষারোপ করে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন এই দুই নেতা। ২০২৩ এ মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে ফিরহাদ হাকিম অধীররঞ্জন চৌধুরী খুনের রাজনীতি করেন বলে অভিযোগ এনেছিলেন। তখন অবশ্য তৃণমূল ক্ষমতায়। পেশিশক্তির পাশাপাশি গলার জোরও কম ছিল না তৃণমূল নেতাদের। কিন্তু ক্ষমতা যেতেই কেমন যেন গুটিয়ে গেছেন সকলে। ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে আগেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে সাবধান বাণী দিয়ে দিয়েছিলেন অধীরঞ্জন চৌধুরী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তখন যদি সে কথা শুনতেন তাহলে হয়তো এই দিন দেখতে হতো না তৃণমূল সুপ্রিমোকে। ২০২৪ সালে অধীরঞ্জন চৌধুরী একটি সভা থেকে ফিরহাদ হাকিমকে গদ্দার বলে কটাক্ষ করেছিলেন। বাংলাদেশে অশান্তি প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্য প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেছিলেন,
জিন্নার বংশধরের একজন উজ্জ্বলতর নক্ষত্রের নাম হচ্ছে হাকিম সাহেব। এগুলোকে পার্টি থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে এখনই বের করে দেওয়া উচিত। এই সমস্ত জিন্নার বংশধররা এই বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত হচ্ছে, পালিত হচ্ছে। ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাঁকে পার্টি থেকে বের করে দেওয়া উচিত।’
অধীররঞ্জন চৌধুরীর সেই কথা যেন সত্যি হল তৃণমূল হারতেই। দল থেকে আর ঘাড় ধাক্কা দিতে হল না ফিরহাদ হাকিমকে। খারাপ সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে ফিরহাদ হাকিমের মতো তৃণমূল নেতারা যেন নিজেকে সৎ প্রমাণ করে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। যিনি তৃণমূলে একাধিক পদে ছিলেন দল হারতেই সব অতীত হয়ে গেল এক নিমেশে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্য, কলকাতার মেয়র, পুরনগরোন্নয়ন মন্ত্রী থেকে ,তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্যও ছিলেন এই ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু দল হারতেই তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করতে সময় নেননি তিনি। আর তাই ফিরহাদ হাকিমকে পুরনো কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি অধীররঞ্জন চৌধুরী।
২০২৪ সালে মার্চে বিজেপির দালাল বলে অধীররঞ্জন চৌধুরীকে আক্রমণ শানিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। বিজেপির সঙ্গে ভিতরে ভিতরে আঁতাতের অভিযোগ করেছিলেন অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে। আর ২০২৬ এ দাঁড়িয়ে সেই কথারই পাল্টা জবাব দিলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। রাজনীতির খেলা বোধহয় একেই বলে।