রাশিয়ার তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বড় ইঙ্গিত ট্রাম্পের!

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির উপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইন নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আইন নতুন করে খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে একইসঙ্গে জানিয়েছেন, আপাতত আমেরিকার নীতিতে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই এই মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

এক সাংবাদিক তাঁকে জানান, রাশিয়া থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনটি ২০২২ সালে কংগ্রেসে পাশ হয়েছিল এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাতে সই করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই ট্রাম্প বলেন, “তাহলে আইনটি বেশ খারাপ বলেই মনে হচ্ছে। আমি অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখব।” হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে আমেরিকার দিকে আসা একটি জাহাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। ওই জাহাজ থেকে ডিজেল খালাস করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা রয়েছে কি না, তা নিয়েও জানতে চান সাংবাদিক।

প্রথমে ট্রাম্প জানতে চান, বিষয়টি কি আমেরিকার জোনস অ্যাক্টের আওতায় পড়ে? তখন সাংবাদিক স্পষ্ট করেন, এটি ২০২২ সালে পাশ হওয়া রাশিয়ার তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনের বিষয়। তবে এই আইন নিয়ে নতুন করে কোনও সিদ্ধান্ত, সংশোধনের পরিকল্পনা কিংবা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানাননি ট্রাম্প। কবে এই বিষয়ে পর্যালোচনা হবে, তা নিয়েও কিছু বলেননি তিনি।

এই বিতর্কের সূত্রপাত প্রায় চার সপ্তাহ আগে। গত ৯ অক্টোবর মার্কিন অর্থ দপ্তরের অধীন বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (OFAC) একটি বিশেষ অনুমতিপত্র জারি করে। যার নাম জেনারেল লাইসেন্স ১৩৫। এই অনুমতিপত্রের মাধ্যমে রাশিয়া সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। রাশিয়ায় উৎপাদিত ডিজেল বিক্রি, সরবরাহ, জাহাজ থেকে খালাস এবং আমেরিকায় আমদানির ক্ষেত্রেও এই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

ওই অনুমতিপত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই ছাড়ের আওতায় আমেরিকায় রাশিয়ার ডিজেল আমদানিও পড়বে। আগামী ৭ এপ্রিল ২০২৭, আমেরিকার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এই অনুমতি কার্যকর থাকবে। তবে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, ন্যাশনাল ওয়েলথ ফান্ড এবং অর্থ মন্ত্রকের মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই অনুমতি শুধুমাত্র ডিজেলের জন্য। রাশিয়ার সমস্ত ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের ৮ এপ্রিল অনুমোদিত ‘এন্ডিং ইমপোর্টেশন অফ রাশিয়ান অয়েল অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, আমেরিকায় রাশিয়ার নির্দিষ্ট পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ। মার্কিন শুল্ক তালিকার ২৭ নম্বর অধ্যায়ে থাকা পণ্যগুলির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর। এই আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হলে প্রেসিডেন্টকে কয়েকটি শর্ত পূরণের প্রমাণ দিতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে এবং যুদ্ধ বন্ধে এমন একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যা ইউক্রেনও মেনে নিয়েছে। পাশাপাশি, ন্যাটো সদস্য দেশগুলির উপর রাশিয়ার সামরিক হামলার আশঙ্কা দূর হয়েছে এবং ইউক্রেনের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও, এই বিষয়ে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলির সঙ্গে আগে আলোচনা করতে হবে। প্রেসিডেন্টের শংসাপত্র জমা দেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে ৯০ দিনের পর্যালোচনার সময়সীমা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেস আপত্তি জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আটকে যেতে পারে। তাই মার্কিন অর্থ দপ্তরের জারি করা বিশেষ অনুমতিপত্র থাকলেই যে ২০২২ সালের আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সমস্ত শর্ত পূরণ হয়েছে, এমনটা বলা যায় না।

এদিকে, এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত ২ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলিকে চিঠি দেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের মাত্র তিন দিন আগেই এই চিঠি পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে শেরিল অভিযোগ করেন, “রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির অনুমতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি মার্কিন ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করছে।” তাঁর দাবি, বিশেষ অনুমতিপত্র জারি করে এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সার্বিক ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনকে দেয়নি সংশ্লিষ্ট আইন। তাই বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলিকে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের চালান গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে, এই ধরনের আমদানি আটকাতে আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে সমস্তরকম পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নিউ জার্সির গভর্নর।