হুমায়ুন কবীরের সাধের বাবরি মসজিদ কি আর তৈরি হবে না। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চান না বাবরি মসজিদ হোক। তিনি পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন মসজিদ তৈরি হোক কিন্তু তার নাম যেন বাবরি মসজিদ না হয়। বাবরের নামে কোনও নির্দশন তিনি বাংলায় আর হতে দেবেন না। মুখ্যমন্ত্রী এই বার্তার পর হুমায়ুন কবীর কী করবেন। তাঁর প্ল্যান বি কি রেডি। হুমায়ুন কবীর যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সংখ্যালঘু মানুষদের, যে আবেগ তৈরি হয়েছিল এই বাবরি মসজিদকে তৈরি কে ঘিরে তার কী হবে। কী বলছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। আর যদি বাবরি মসজিদ তৈরি না হয় তা হলে সংগ্রহ করা বড় অঙ্কের তহবিলের কি হবে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
২৬ এ বিধানসভা ভোটে বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে খেলা জমিয়ে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের দিন ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা হুমায়ুন কবীর আর আজকের হুমায়ুন কবীরের কথার মধ্যে বিস্তর ফারাক। গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। রাজনীতির পাকচক্রে হুমায়ুন কবীরের অবস্থান এখন বেশ গোলমেলে। কখন যে কী বলে বসছেন তার খেয় খুঁজে পাওয়া খুব দুষ্কর। বাবরি মসজিদ নামঙ্করন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি এই নামে মসজিদ তৈরি হলে বেগ পেতে হবে।
অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন হুমায়ুন কবীর তেড়েফুঁড়ে উঠবেন। আবার হয়তো কোনও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসবেন। কিন্তু না কেমন যেন সুর নরম হুমায়ুন কবীরের। তিনি বলছেন,আগে তো মসজিদ তৈরি হতে দিন। তারপর নামকরণের প্রশ্ন। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর ইচ্ছাকে মান্যতা দেব না কেন? তিনি যদি বাবরের নাম নিয়ে আপত্তি তোলেন, তখন অন্য নামকরণ করা হবে। সদ্য রেজিনগরে হারের ধাক্কা খেয়েছেন, নানা সময় বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে থানায় চক্কর কাটতে হচ্ছে তাঁকে। তাই কি একটু ধরে খেলছেন হুমায়ুন কবীর? না হলে হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সুর নরম কেন নওদার বিতর্কিত বিধায়কের। অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ কী বলছেন। হঠাৎ করে হুমায়ুন কবীরের এই ভোলবদল তাঁরা কীভাবে দেখছেন।
বাবরি মসজিদ যদি না তৈরি হয় তাহলে ওই জমিতে কী হবে। সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২.৮৫ কোটি থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান জমা পড়েছিল। অনলাইন অনুদান অর্থাৎ কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে প্রায় ৯৩ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। ভাবুন একবার বাবরি মসজিদ তৈরি নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের আবেগ কীভাবে তৈরি হয়েছিল। শোনা গিয়েছিল বিদেশ থেকেও নাকি সাহায্য মিলেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী বার্তার পর যেভাবে পিছু হটেছেন হুমায়ুন কবীর আদৌ আর বাবরি মসজিদ তৈরি হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সোশ্যাল মাধ্যমজুড়ে কেউ কেউ আবার পরামর্শও দিতে শুরু করেছেন। কেউ বলছেন এপিজে আব্দুল কালামের নামে হাসপাতাল, স্কুল তৈরি হোক। কেউ আক্ষেপের সুরে বলছেন বাবরি মসজিদের নামে প্রাঙ্ক হয়ে গেল। সোশ্যাল মাধ্যমে তো চর্চা শুরু অন্যদিকে অধীররঞ্জন চৌধুরী দাবি করেছেন, বাবরি মসজিদ শুধুমাত্র ভোটের গিমিক। ২৯ সাল পর্যন্ত বাবরি মসজিদ তৈরির ইস্যু থাকবে। অতএব এখন দেখার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত কীসের রূপ নেয়। হুমায়ুন কবীর কি খেল দেখান ২০২৯ লোকসভা ভোট না হওয়া পর্যন্ত।