‘আমার বুকে বুলডোজার চালাও’

জন্মদিনের রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে শনিবার সকালেও উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সকালেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বাড়িতে পৌঁছন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই বিজেপি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন তিনি। একই সঙ্গে ‘বুলডোজার’ প্রসঙ্গ তুলে তীব্র হুঁশিয়ারিও দেন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

মমতার অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বিজেপির এক দল দুষ্কৃতী এসে কালীপুজোয় বাধা দিয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁর বাড়ির কাছের একটি ক্লাবকে রাতে পুজোর কাজ করতে দেওয়া হয়নি। আগে যে পুজো ভিতরে হত, সেটিই এ বার রাস্তার মোড়ে করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কথায়, ‘‘আমার বুকে বুলডোজার চালাও। আমার শরীরের উপর দিয়ে বুলডোজার চালাও।’’

কেন বুলডোজারের প্রসঙ্গ উঠল, তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও মমতা দাবি করেন, উদ্দেশ্য করেই তাঁর পাড়ার পুজোকে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, রাত ২টো-৩টের সময় কেন লোকজন এনে কালীপুজোয় গোলমাল করা হচ্ছে? ওই এলাকায় পুজোর প্রতিমা যাতায়াত করে বলেও জানান তিনি।

অভিষেকের বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। কালীঘাট থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিষেকের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পুলিশকে নিজেদের ‘লক্ষ্মণরেখা’ মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

মমতা বলেন, ‘‘কয়েকটি থানা যা করছে, আমি সব জানি।’’ পুলিশকর্তাদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, পদোন্নতি বা ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে কাজ না করে মানুষের কথা ভাবতে হবে। একই সঙ্গে জনরোষের পরিস্থিতি তৈরি হলে মহিলাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার রাতে অভিষেকের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বাড়ির সামনে জমায়েত ঘিরে প্রথমে বচসা, পরে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় দু’পক্ষেরই কয়েক জন আহত হন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রাতেই বাড়ির সামনে ধরনায় বসেছিলেন অভিষেক। শনিবার সেই পরিস্থিতিতে মমতার উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল কালীঘাটে।