নকশালমুক্ত ভারতের প্রথম দীপাবলি: নরেন্দ্র মোদী

দীপাবলির বিশেষ দিনে রবিবার ছত্তিশগড়ের বস্তারে মাওবাদী দমন অভিযানে নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে উৎসব পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, এবারের দীপাবলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দেশ মাওবাদী সমস্যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে। এখন দেশের প্রতিটি জেলা মাওবাদীমুক্ত। কোটি কোটি মানুষ মাওবাদীদের ভয়ের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

নিরাপত্তারক্ষীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের দীপাবলি দেশের কাছে অত্যন্ত বিশেষ। কারণ, মাওবাদী ও নকশাল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর এটাই প্রথম দীপাবলি। দেশের প্রতিটি জেলা এখন নকশালমুক্ত। বহু মানুষ এতদিন যে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতেন, তা থেকেও মুক্তি পেয়েছেন।

নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দীপাবলি পালনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোদী বলেন, দেশের সীমান্তে যাঁরা পাহারা দেন এবং দেশের ভিতরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলান, তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁর পরিবারের সদস্য। তিনি বলেন, দেশজুড়ে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কোটি কোটি ভারতীয় আলোর উৎসব পালন করছেন। এই সময়ে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে মিলিত হন। তিনিও সেই আনন্দ ভাগ করে নিতেই নিরাপত্তারক্ষীদের মাঝে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এবারের দীপাবলি তিনি বস্তারের জঙ্গলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কাটাচ্ছেন। একসময় এই অঞ্চল মাওবাদী সমস্যায় জর্জরিত ছিল। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার কারণে সেখানে মাওবাদী সমস্যার অবসান ঘটেছে। শুরু হয়েছে উন্নয়নের নতুন অধ্যায়।

অন্যদিকে, রবিবার সিকিমের নাথুলা পাসের কাছে শেরাথাং ওয়ার মেমোরিয়ালে ভারতীয় সেনার জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেনার শৃঙ্খলা, কর্তব্যবোধ ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর কথায়, দেশের সীমান্তে সেনা জওয়ানরা পাহারা দেন বলেই সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে উৎসব পালন করতে পারেন এবং রাতে শান্তিতে ঘুমোতে পারেন। দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে সেনা জওয়ানদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অভিনন্দন জানান রাজনাথ। একইসঙ্গে শেরাথাং ওয়ার মেমোরিয়ালে যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, সেই শহিদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। রাজনাথ বলেন, “প্রথমেই আপনাদের এবং আপনাদের পরিবারের সদস্যদের দীপাবলির শুভেচ্ছা জানাই। শেরাথাং ওয়ার মেমোরিয়ালের সেই বীর শহিদদেরও শ্রদ্ধা জানাই, যাঁরা দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।”