আমেরিকার হারেই ইরানের জয়? ট্রাম্প প্রশাসনকে কটাক্ষ তেহরানের

আমেরিকার সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির খারাপ ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে, ইরানের মনোবল ভাঙতে পারেনি ওয়াশিংটন। রবিবার এমনই দাবি করলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখারচি। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ধাক্কা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়, এর মাধ্যমে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। তা হল, ইরানকে দুর্বল করার মার্কিন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখারচি বলেন, আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে আগ্রাসন, গুপ্তহত্যা এবং সর্বোচ্চ চাপ তৈরির নীতি নিয়ে এগিয়েছে। সামরিক কৌশল প্রয়োগ করেও ইরানের নেতৃত্ব, সাধারণ মানুষ এবং সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল ভাঙতে পারেনি তারা। ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দৃঢ় সংকল্পের সামনে আমেরিকার সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের নর্দার্ন ফ্লিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহসেন রাজ্জাকি। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দেশের সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষায় নৌবাহিনী দিনরাত প্রস্তুত। উত্তর উপকূলের শহর আস্তারায় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্জাকি বলেন, নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি হল তার দক্ষ কর্মীরা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাহিনী থেকে শুরু করে কমান্ডো সবাই দেশের জলসীমা সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-র খবর অনুযায়ী, রাজ্জাকি আরও বলেন, “ইরানের উপর কোনও হামলা হলে তার মূল্য এমন পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে শত্রুপক্ষ ভবিষ্যতে আর আক্রমণ করার সাহস না পায়।” তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক কৌশল শুধু যুদ্ধ থামানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং কোনও দেশ হামলা চালালে তার জন্য এমন কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করাই লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আক্রমণের কথা ভাবতেও ভয় পায়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌবাহিনীর শক্তি, দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের দৃঢ় মনোবল এই তিনটি বিষয়কে দেশের প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের একের পর এক বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন করে কোনও হামলা হলে তার জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত তেহরান। এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই সমাজমাধ্যম এক্স-এ হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, “যুদ্ধ শুরু করলে তার ভয়াবহ জবাবের মুখে পড়তে হবে।”

গত অক্টোবরের শেষদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা সৈয়দ মোজতবা খামেনেই সেনা আধিকারিকদের ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশ ছিল, ফের কোনও হামলা হলে ভৌগোলিক সীমার তোয়াক্কা না করে দ্রুত ও কার্যকর জবাব দিতে হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করার কথাও বলা হয়েছিল। এদিকে, ইরানের এই নতুন হুঁশিয়ারির মধ্যেই আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি নতুন টাস্ক ফোর্স গঠনের কথা জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, স্থলপথ ব্যবহার করে উন্নত অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারের প্রযুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বিভিন্ন সামগ্রী পরিবহণ করছে ইরান। সেই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে এবং তেহরানের উপর চাপ বাড়াতেই এই নতুন বাহিনী গঠন করেছে আমেরিকা।