বয়স তাঁর ৯৭। কিন্তু এখনও নিয়মিত রোগী দেখছেন, পথ্য বলে দিচ্ছেন। আর সেই সঙ্গে ‘বিচার’ চাইছেন। তিনি বিচার চাইছেন আর জি কর কাণ্ডের। তিনি বিধানচন্দ্র রায়ের একমাত্র ছাত্র যিনি এই ৯৭ বছর বয়সে এসেও নিয়মিত রোগী দেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি চিকিৎসক সুকুমার চন্দ্র।

সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূম- বাংলার অন্যতম প্রখ্যাত সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিশু ডাক্তার’-এর কথা কি মনে আছে আপনাদের ? অথবা ‘আরোগ্য নিকেতন’ এর সেই ‘নবীন ডাক্তার’, বা ‘সুখ সারি কথা’র ‘আশু ডাক্তার’ ! এইসব চিকিৎসক চরিত্র যে রক্ত মাংসের মানুষটি কে মাথায় রেখে আঁকা হয়েছিলো, লেখা হয়েছিলো একের পর এক গ্রন্থ, উপন্যাস, সেই মানুষটি হলেন বীরভূমের জীবন্ত কিংবদন্তি চিকিৎসক সুকুমার চন্দ্র। জীবন্ত কিংবদন্তি কারণ এই ৯৭ বছর বয়সে পৌঁছেও রোজ নিয়ম করে রোগী দেখছেন। বয়সের ভারে এখন আর কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বসতে পারেন না, তাই নিজের বাড়িতেই রোগী দেখেন তিনি। প্রতিদিন ২৫ জন করে রোগী দেখেন। ভিজিট হিসাবে নেন একশো থেকে দেড়শো টাকা। অনেকের কাছ থেকে আবার সেই টাকাও হয়তো পান না তিনি। তবু রোগী দেখে লিখে দেন প্রয়োজনীয় পথ্যের নাম। আর সেই প্রেসক্রিপশনেই ‘বিচার’ চাইছেন চিকিৎসক সুকুমার চন্দ্র।


অশীতিপর বৃদ্ধ এই চিকিৎসক আর জি কর কাণ্ডে খুন হওয়া ‘অভয়া’-র মৃত্যুর বিচার চাইছেন। নিজে আর জি কর হাসপাতালের প্রাক্তনী। সেই মেডিক্যাল কলেজেরই এক চিকিৎসক ছাত্রীর এই অস্বাভাবিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। বয়স হয়েছে, তাই পথে নেমে হয়তো প্রতিবাদ করতে পারছেন না। তাই বলে এই জঘন্য কাজের প্রতিবাদ করা ছেড়ে দেবেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসের একমাত্র জীবন্ত চরিত্র ? প্রতিবাদ তিনি ছাড়েন নি।

নিজের মতো করে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন এই ৯৭ বছর বয়সে এসেও। প্রতিদিন যত রোগী তাঁর কাছে আসেন, তাঁদের পথ্য লিখে দেওয়ার প্রেসক্রিপশনকেই তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসাবে। প্রেসক্রিপশনের উপরে তাই তিনি ছাপার অক্ষরে লিখে রেখেছেন ‘জাস্টিস ফর আর জি কর'(JUSTICE FOR R.G.KAR)।