উৎসবের কোনো ধর্ম হয় না, উৎসবের রঙ সবার জন্য সমান।এই আপ্ত বাক্যকেই দশ বছর ধরে ধূপগুড়ি শহরের মিলপাড়ার মহিলা পরিচালিত সম্প্রীতির সংঘের পূজো অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে আসছে।যখন ধর্মের নামে বিভেদের দেওয়াল তোলার চেষ্টা চলে চারদিকে,ঠিক তখনই ধূপগুড়ির এই বিশেষ দুর্গাপুজো ভারতের সনাতন বহুত্ববাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অসামান্য আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।টানা ১০ বছর ধরে হিন্দু,মুসলিম,হরিজন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দুর্গোৎসবের আয়োজন করে আসছেন।পুজো প্রাঙ্গনে আশেপাশে সমস্ত ধর্মাবলম্বীদের বসবাস।সকলে মিলেই প্রতিবছরের মতো এবছরও দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছে।

সুপ্রিয় বসাক,নিজস্ব সংবাদদাতা
সাধারণত দুর্গাপুজোকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব হিসেবে দেখা হলেও, এই মণ্ডপে প্রবেশ করলে সেই ধারণা আমূল বদলে যায়।এখানে পুজোর রূপরেখা তৈরি থেকে মণ্ডপসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন এবং ভোগ বিতরণের প্রতিটি স্তরে প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ থাকে।এখনকার দিনে দাঁড়িয়ে এই পুজো শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই,এটি একটি সামাজিক বিপ্লব হয়ে উঠেছে।

দশ বছর ধরে চলা সম্প্রীতির পুজো প্রমাণ করে দিয়েছে, উৎসবের আসল উদ্দেশ্য মানুষের সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের মেলবন্ধন ঘটানো। ঢাকের কাঠি,ধুনো আর শঙ্খধ্বনির মাঝে যখন মণ্ডপে আল্লাহ-যীশু-ঈশ্বরের উপাসকেরা একসঙ্গে হাত মেলান,তখন এক টুকরো প্রকৃত ভারত তৈরি হয়।ধূপগুড়ির এই সম্প্রীতির মহোৎসব আগামী দিনেও গোটা বাংলার তথা দেশের বুকে একতার আদর্শ দৃষ্টান্ত হয়ে টিকে থাকবে,এটাই সকলের প্রত্যাশা।