নন্দীগ্রামের ভোটযুদ্ধ কি এবার নতুন মোড় নিল? ভোটের ময়দানে মুখোমুখি দুই প্রার্থী, আর দুজনের নামই জড়িয়েছে আদালতের মামলায়। একজনের হলফনামার তথ্য ঘিরে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন, অন্যজন আবার ১৯ বছরের পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়ে ছিলেন জেলে। মঙ্গলবার আদালতে ছিল দু’টি মামলার রায়। শেষ পর্যন্ত আদালত থেকে কে পেল স্বস্তি? আর কার বিরুদ্ধে আরও ঘনীভূত হল বিতর্ক? নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে নজর এখন আদালতের রায়ের দিকে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
ভোট যত এগোচ্ছে, ততই নন্দীগ্রাম ঘিরে ঘনাচ্ছে কৌতুহল। বাঁধছে টক্করে টক্করে লড়াই। দুই প্রার্থীর নামে মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দুই মামলারই রায় সামনে এল মঙ্গলবার। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, তাঁর জন্ম সাল মোটামুটি ১৯৬৫। একইসঙ্গে এও উল্লেখ, ১৯৬৫ সালে চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠ স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন তিনি। কংগ্রেসের অভিযোগ, জন্মেই কি করে বিজেপি প্রার্থী দশম শ্রেণির ছাত্রী হলেন? বিতর্ক এখানেই শেষ নয়, ওই স্কুল ১৯৬৩ সালে পথ চলা শুরু করে। ১৯৬৩ সালে ওই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করানো হত। ১৯৭৩ সালের দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর সরকারি অনুমোদন পায় ওই স্কুল। হাসিরানি রথের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কংগ্রেস আইনজীবীদের অভিযোগ, মনোনয়নে হাসিরানির যে বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে মাধ্যমিক সার্টিফিকেটের কোনও মিল নেই। সেক্ষেত্রে বয়স ভুল দেওয়া হয়েছে কিংবা জাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হয়েছে। এমনই অভিযোগ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মিথ্যে তথ্য দেওয়া হলে, মনোনয়ন বাতিলের অধিকার থাকে রিটার্নিং অফিসারের। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার কেন তা করেননি, তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের আইনজীবী।
অবশেষে মঙ্গলবার সেই মামলায় বড় স্বস্তি বিজেপি প্রার্থীর। হাসিরানির আইনজীবী সওয়াল-জবাব পর্বেই জানান, এটি একেবারেই অনিচ্ছাকৃত ভুল। আর যে সময়ে আপত্তি জানানোর কথা ছিল, সেই সময়ে আপত্তি তোলা হয়নি। তাই আদালত পদক্ষেপ করতে পারে না। কমিশনের আইনজীবীও জানান, স্ক্রুটিনির সময়ে কেউ আপত্তি তুললে তা বৈধ। এর পরে মামলাকারীর কোনও অধিকার নেই এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলার। যদি জনস্বার্থ মামলা হতো, তা হলে এই প্রশ্ন তোলা যেত। মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশনার। সব পক্ষের শুনানির পর রায়দান স্থগিত রাখেন কলকাতা হাইকোর্ট বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
অন্যদিকে আসন্ন নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে আপাতত আইনি স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ১৯ বছরের পুরনো একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এই কংগ্রেস প্রার্থীর আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। মিলনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ছটি মামলাতেই আপাতত জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান, তিন সপ্তাহের জন্য মিলন জামিন পাবেন। অর্থাৎ, জেলের বাইরে থেকেই ভোটে লড়তে পারবেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী।
একদিকে বয়স ও শিক্ষাগত নথি ঘিরে প্রশ্ন, অন্যদিকে ১৯ বছরের পুরনো মামলায় আপাতত জেলমুক্তি। মঙ্গলবার আদালতের শুনানিতে নন্দীগ্রামের দুই প্রার্থীর সামনে খুলল দুই ভিন্ন ছবি। হাসিরানি রথের মামলা এখনও রায়ের অপেক্ষায়, আর অন্তর্বর্তী জামিনে ভোটের ময়দানে ফিরলেন মিলন প্রধান। কিন্তু ভোটের আগে আদালতের দরজা পর্যন্ত গড়ানো এই দুই মামলা কি এখানেই থামবে? নাকি নন্দীগ্রামের ফলাফলের আগেই আরও কোনও আইনি মোড় অপেক্ষা করছে?