জিওর আইপিও-তে আবেগঘন মুহূর্ত!

ব্যবসার মঞ্চে সাফল্যের উদ্‌যাপন। আর সেই মঞ্চেই আবেগে ভেসে গেলেন রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ অম্বানী। জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও তালিকাভুক্তির অনুষ্ঠানে ছেলে অনন্ত অম্বানী ও মেয়ে ইশা অম্বানীর বক্তব্য শুনতে শুনতে চোখের জল মুছতে দেখা গেল তাঁকে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

পরিবারের ব্যবসায়িক উত্তরাধিকার, জিয়োর সাফল্য এবং আগামী দিনের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিলায়্যান্স রিটেল ভেঞ্চার্সের এগ্‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর ইশা ফিরে যান পরিবারের পুরনো স্মৃতিতে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে রাতের খাবারের টেবিলে ১৯৭৭ সালের কথা বলছিলেন তাঁর বাবা মুকেশ। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০। রিলায়্যান্সের প্রথম গণপ্রস্তাব বা আইপিও-র কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। ইশার কথায়, তাঁর ঠাকুরদা ধীরুভাই অম্বানী চেয়েছিলেন, রিলায়্যান্সের সঙ্গে সাধারণ মানুষেরও সম্পর্ক তৈরি হোক।

জিও-র সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইশা জানান, মাত্র ১০ বছরের মধ্যে সংস্থাটির বার্ষিক আয় প্রায় ১৫৫০ কোটি ডলার নয়, ১৫৫০ কোটি ডলার (১৫.৫ বিলিয়ন) ছুঁয়েছে। প্রকৃত আয় প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। তবে তাঁর মতে, এই বিপুল পরিসংখ্যানের পিছনে রয়েছেন লক্ষ লক্ষ গ্রাহক, যাঁরা জিও-কে নিজেদের করে নিয়েছেন।

ভাই আকাশ অম্বানীর পরিশ্রমের কথাও তুলে ধরেন ইশা। তিনি জানান, জিও-র পথচলায় গত ১৩ বছরে আকাশের এমন দিন প্রায় আসেনি, যেদিন তিনি মধ্যরাতের আগে বাড়ি ফিরেছেন। ভাইয়ের জন্য গর্বের কথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।

অন্য দিকে, অনন্ত অম্বানীর বক্তব্যে উঠে আসে কৃতজ্ঞতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, শেয়ার বাজারে ঘণ্টা বাজার শব্দ তাঁর কাছে মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির মতো। কারণ, তাঁর কাছে ব্যবসা পুজোর সমান। আর পুজোর প্রসাদ সকলের মধ্যে ভাগ করে নেওয়াই রীতি। সেই ভাবনা থেকেই জিওকে দেশের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

ইশা, আকাশ ও অনন্ত—তিন ভাইবোনকে তিনটি শরীর, কিন্তু এক আত্মা বলে উল্লেখ করেন অনন্ত। তাঁর বক্তব্য, নতুন স্বপ্ন দেখলেও রিলায়্যান্সের শিকড় থাকবে একই জায়গায়—ধীরুভাইয়ের স্বপ্ন, ঠাকুমার আশীর্বাদ, বাবার পথনির্দেশ এবং মা নীতা অম্বানীর দেওয়া বিনয় ও যত্নের শিক্ষা।