দুই সন্তানকে খুন করে আত্মঘাতী গৃহবধূ!


বিশ্বজিৎ মণ্ডল, নিজস্ব প্রতিনিধি: সপ্তমীর সকালে নিজের ৭ বছরের পুত্র সন্তান এবং ৬ মাসের শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে নিজের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী এক গৃহবধূ। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পুরাতন মালদা পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের বাচামারি গভর্মেন্ট কলোনির নিচু পাড়ায়। পুজোর দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের আবহ গোটা এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে আত্মঘাতী গৃহবধুর নাম রূপালি হালদার। বয়স ২৮ বছর। মৃত পুত্র সন্তান অয়ন হালদারের বয়স ৭ বছর এবং কন্যাসন্তানের বয়স মাত্র ৬ মাস। খবর পেয়েই দেহ তিনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায় মালদা থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, স্বামী অসিত হালদারের সঙ্গে বিবাদ চলছিল স্ত্রী রূপালি হালদারের। কিছুদিন ধরে বাপের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরেই থাকছিলেন। মাত্র তিন-চার মাস আগে মঙ্গলবাড়ীতে ফেরেন। বাড়িতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হামেশাই ঝামেলা লেগে থাকত বলে খবর। পুলিশকে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, ষষ্ঠীর রাতেও মৃত গৃহবধুর স্বামী আসিত হালদার তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পুজো দেখতে চেয়েছিলেন। তাতে আপত্তি জানান স্ত্রী। এই নিয়েই গন্ডগোলের সূত্রপাত। তারপর দুই সন্তানকে নিয়ে নিজের ঘরেই ঘুমিয়ে পড়েন গৃহবধূ। স্বামী অন্য জায়গায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকাল দশটা বেজে গেলেও গৃহবধূ ঘুম থেকে না ওঠায় বাড়ির সদস্যদের সন্দেহ হয়। দরজা ভেঙে দেখা যায় সন্তান দুটির নিথর দেহ খাটের উপর পড়ে রয়েছে। সিলিং ফ্য়ানের সঙ্গে ঝুলছে গৃহবধূর দেহ। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে মালদা থানার পুলিশ। ৩টি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গৃহবধুর স্বামীকে নিজের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। 
আত্মঘাতিক গৃহবধূর শ্বশুর তরুণ হালদার জানান,ছেলে এবং বৌমার সঙ্গে রাতে ঝামেলা হয়েছিল আমার নাতিকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া নিয়ে চ কিন্তু আমার বৌমা বাধা দিচ্ছিল আমার নাতিকে ছেলের সাথে পাঠাবে না সেই নিয়ে ঝামেলা হয় এবং আজকে সকালে দেখি এই ধরনের ঘটনা। 

ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্যামমন্ডল তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। সত্যিই কি আত্মহত্যা নাকি খুন, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।