মেয়েকে বাঁচাতে মায়ের লড়াই!

মেয়েকে বাঁচাতে প্রয়োজন ২০ লক্ষ টাকা, মানুষের দরজায় দরজায় ছুটছেন মা।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতাঃকতটা অসহায় হলে একজন মা নিজের মেয়ের জীবন বাঁচাতে মানুষের কাছে হাত পাততে পারেন? কতটা অসহায় হলে বছরের পর বছর চিকিৎসা করিয়েও শেষমেশ টাকার কাছে থমকে যেতে হয় গোটা পরিবারকে? ফুলিয়ার এক মায়ের চোখের সামনে ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে তাঁর মেয়ের জীবন। চিকিৎসকরা দিয়েছেন কঠিন বার্তা, সামনে মাত্র একটাই পথ। বড় অস্ত্রোপচার। কিন্তু সেই অস্ত্রোপচারের খরচ প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। টাকা নেই, সামর্থ্য নেই। তাহলে কি টাকার অভাবেই থেমে যাবে আট বছরের লড়াই? মেয়েকে বাঁচাতে এখন শেষ আশাটুকু নিয়ে মানুষের দরজায় দরজায় ছুটছেন মা।

অনেক সময় ইচ্ছে থাকলেও থাকে না সামর্থ্য। থাকে না উপায়। তখন যেন মনে হয় পায়ের তলা থেকে ধীরে ধীরে মাটি সরে যাচ্ছে। মায়ের চোখের সামনে ধীরে ধীরে জীবনের শেষের দিকে এগিয়ে চলেছে মেয়ে। মা হন্নে হয়ে ছুটছেন। কিন্তু উপায় বলতে হাতে কিছুই নেই। স্বামীও নিরুপায়। তাঁরও যেন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এক অন্ধকার গ্রাস করে আছে পুরো পরিবারের চারিপাশে। আলোর ফুলকিও যেখানে দেখা যাচ্ছে না। সেখানে রয়েছে শুধু মেয়ের জন্য মায়ের আকুল আর্তি।

শান্তিপুর থানার অন্তর্গত ফুলিয়া ৫২ বিঘা এলাকার বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী সুমনা দাস। প্রায় আট বছর আগে হঠাৎই তাঁর পা ফুলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এক বিরল রোগের উপসর্গ। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর চাকদহে তাঁর বিয়ে হলেও সুখ স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথাতেই ফের ফিরে আসে সেই মারণ ব্যাধি। দীর্ঘ আট বছর ধরে মারণ রোগের সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ৩৪ বছরের এক মহিলা। চিকিৎসার খরচ চালাতে সর্বস্বান্ত পরিবার। প্রয়োজন ২০ লক্ষ টাকা। চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি। দুটি পরিবারই। এখন প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত প্রয়োজন প্রায় ২০ লক্ষ টাকার অস্ত্রোপচার। কোথা থেকে আসবে এত টাকা?

কিন্তু দীর্ঘ আট বছর ধরে চিকিৎসার খরচ টানতে টানতে আজ দুটি পরিবারই কার্যত দিশেহারা, শেষ হয়ে গিয়েছে সমস্ত জমানো সঞ্চয়। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, সুমনার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক এবং তাঁকে বাঁচাতে গেলে দ্রুত একটি বড় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, যার আনুমানিক খরচ প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। এক চিলতে সংসার আর দিনমজুরি বা সীমিত উপার্জনের ভরসায় চলা পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে মা বাসনা দাস এখন তাকিয়ে সমাজের বিবেকবান মানুষের দিকে, যাতে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে তাঁর মেয়ে নতুন জীবন ফিরে পায়।

আট বছরের লড়াইয়ে হার মানেনি সুমনা, হার মানেনি তাঁর পরিবারও। কিন্তু এবার লড়াইটা শুধু রোগের বিরুদ্ধে নয়, লড়াইটা ২০ লক্ষ টাকার সঙ্গেও। চিকিৎসকরা বলছেন, সময় যত গড়াবে, বিপদ ততই বাড়বে। তাই মেয়েকে বাঁচানোর শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে রয়েছেন মা বাসনা দাস। তাঁর চোখে এখন একটাই প্রশ্ন। টাকার অভাবে কি থেমে যাবে মেয়ের বাঁচার লড়াই? নাকি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে কেউ এগিয়ে এসে ফিরিয়ে দেবেন সুমনার জীবনের আলো