ইতালির ‘সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী’ সরকার মেলোনির, শুভেচ্ছা মোদীর, ‘এই স্থায়িত্ব ইতালীয়দের আস্থার প্রতিফলন’, বললেন প্রধানমন্ত্রী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন একটানা ক্ষমতায় থাকা সরকারের নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তাঁর সরকার শুক্রবার ১,৪১৩ দিন পূর্ণ করেছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মেলোনিকে শুভেচ্ছা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে ভারত-ইতালি ‘স্পেশ্যাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে মেলোনিকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে মোদী লেখেন, ‘‘ইতালির যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় একটানা প্রধানমন্ত্রী থাকার জন্য আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে অভিনন্দন। এই মাইলফলক তাঁর নেতৃত্বের প্রতি ইতালীয় মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।’’
ভারত-ইতালি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও মেলোনির ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, মেলোনির বন্ধুত্ব দুই দেশের ‘স্পেশ্যাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’কে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আগামী দিনেও দুই দেশের মানুষের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
মেলোনির সরকারের আগে এই রেকর্ড ছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির দ্বিতীয় সরকারের। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা ১,৪১২ দিন ক্ষমতায় ছিল সেই সরকার। মেলোনির সরকার শুক্রবার সেই রেকর্ড এক দিন ছাপিয়ে গেল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের আট দশকে ইতালিতে ৬৮টি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ফলে একটি সরকারের এত দিন টানা ক্ষমতায় থাকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে ইতালির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেন মেলোনি।
রেকর্ড গড়ার পর ইতালীয়দের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেলোনি। তাঁর কথায়, ‘‘২০২২ সালে ইতালীয়রা যে আস্থা আমাদের উপর রেখেছিলেন, তার জন্যই এই স্থায়িত্ব সম্ভব হয়েছে। সেই আস্থাকে আমরা কখনও খোলা ছাড়পত্র বলে মনে করিনি, ভবিষ্যতেও করব না।’’
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেকারত্ব কমানো, পরিবার ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো, দেশের নিরাপত্তা জোরদার এবং সরকারি অর্থব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসাবে তুলে ধরেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতালির গুরুত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের কথাও উল্লেখ করেছেন মেলোনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বারিতে ‘ফ্রাতেল্লি দ’ইতালিয়া’-র কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের এত দিনের কাজের পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করবেন মেলোনি।