যুদ্ধের আবহে ভারতের এই ৩টি ‘গোপন গুহা’ই বাঁচাবে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক : বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। কয়েকশো বিভিন্ন দেশের জাহাজ সেখানে রয়েছে। ইরানের চোখ রাঙ্গানিতে সেই সমস্ত জাহাজ গুলি তেল নিয়ে ফিরতে পাচ্ছে না। এই আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তবুও ভারত নিশ্চিন্ত। কারণ, ভারতের কাছে রয়েছে তেলের গোপন ভাণ্ডার’ যার নাগাল পাওয়া শত্রুপক্ষের ড্রোন বা মিসাইলের পক্ষেও অসম্ভব ব্যাপার। পাহাড়ের গভীরে খোদাই করা তিনটি বিশাল গুহায় ভারত মজুত করে রেখেছে লক্ষ লক্ষ টন অপরিশোধিত তেল।
কোথায় লুকিয়ে এই গোপন খনি? ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ‘ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ লিমিটেড’-এর তৈরি তিনটি ভূগর্ভস্থ গুহায় মজুদ রয়েছে:-
বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ) এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন তেলের গুহা।
ম্যাঙ্গালুরু (কর্নাটক) কর্নাটকের উপকূলে মাটির গভীরে তৈরি তেলের ভাণ্ডার।
পাদুর (তামিলনাড়ু) তামিলনাড়ুর এই গুহাটিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কতটা শক্তিশালী এই রিজার্ভ? এই তিনটি গুহা মিলিয়ে মোট ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন (প্রায় ৪০ মিলিয়ন ব্যারেল) অপরিশোধিত তেল মজুত রাখা যায়। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির মতে, এই মজুত তেল দিয়ে দেশের অন্তত ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এ ছাড়াও শোধনাগারগুলোতে আরও ২৫ থেকে ৩০ দিনের তেল মজুত রয়েছে। মাটির গভীরে থাকায় এখানে আগুন লাগার ঝুঁকি কম এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও অনেক কম।
যুদ্ধের আবহে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ যেখানে একেবারে দিশেহারা সেখানে ভারত বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সফল কূটনীতিতে ইরান ভারতীয় ট্যাঙ্কারগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে ভারত ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করছে, যার ৭০ শতাংশই হরমুজ প্রণালীর বাইরের রুট দিয়ে আসছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড়সড় ধাক্কা দিতে পারবেনা।
এখান থেকেই বোঝা যায় ভারতের কূটনৈতিক চাল সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভিন্ন দেশের সাথে কিভাবে তাল মিলিয়ে চলতে হয় সেটা ভারতবর্ষ ভালো ভাবে যানে।