দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে উত্তর কলকাতার বাগবাজার সর্বজনীনের দুর্গা প্রতিমার চক্ষুদান করতেন শিল্পী খোকা পাল। কিন্তু এবার শিল্পীবদল হল। আজ, মঙ্গলবার দেবীর চক্ষুদান হয়েছে। এই চক্ষুদান করেছেন শিল্পী ইন্দ্রনাথ পাল। পুজোর আর বেশিদিন বাকি নেই। জোরকদমে চলছে প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরির কাজ। ১০৮ বছরের এই প্রাচীন সাবেকি পুজোর মহিমা এখনও একই রয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজো বাংলার এক অত্যন্ত সাবেকি ঐতিঝ্যময় পুজো। একচালার ডাকের সাজের এই প্রতিমা থিমের ঠাকুরের ভিড়েও স্বমহিমায় বিরাজ করে। কলকাতার বাগবাজারের দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও আবেগ। সাবেকি একচালার প্রতিমার টানে প্রতি বছরই শহর তো বটেই, দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষ ভিড় করেন বাগবাজারের মাঠে। পুজোর কয়েকটি দিন গোটা এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
এবারের পুজো শুরু হওয়ার আগেই অবশ্য তৈরি হয়েছিল কিছু জটিলতা। সেই বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পরে আদালতের নির্দেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং নির্ধারিত সময়েই মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। পুজো ঘিরে মতপার্থক্য থাকলেও, বাগবাজারে দুর্গাপুজো হবে এ বিষয়ে সকল পক্ষই একমত ছিল। বাগবাজারের প্রতিমা তৈরির সঙ্গেও রয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিল্পী-পরম্পরা। দীর্ঘদিন কুমোরটুলির শিল্পী জীতেন পাল প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্ব সামলেছেন। পরবর্তীতে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে নারায়ণচন্দ্র পাল।
তবে এবার আরও একটি জায়গায় বদল এসেছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে বাগবাজারের দুর্গাপ্রতিমার চক্ষুদানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন শিল্পী খোকা পাল। তাঁর তুলির টানেই মায়ের চোখে প্রাণের ছোঁয়া পেত প্রতিমা। কিন্তু বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে এবার আর সেই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। ৭৫ বছর বয়সি খোকা পাল বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। শারীরিক সমস্যার কারণে রং-তুলি হাতে নেওয়াও তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে সাময়িক পরিবর্তন এনে এ বছর চক্ষুদানের দায়িত্ব দেওয়া হয় কুমোরটুলির শিল্পী ইন্দ্রনাথ পালকে।
মহালয়ার আগেই তাঁর তুলির টানে সম্পন্ন হয়েছে বাগবাজারের মায়ের চক্ষুদান। দায়িত্ব পাওয়ার পর ইন্দ্রনাথ পাল জানান, বাগবাজারের মতো ঐতিহ্যবাহী পুজোর প্রতিমায় চোখ আঁকার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের। একইসঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, তিনি চেয়েছিলেন এত বছরের ঐতিহ্য মেনে তাঁর কাকা খোকা পালই এবারও মায়ের চক্ষুদান করুন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। একদিকে আদালত-জটিলতা কাটিয়ে পুজোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের শিল্পী-পরম্পরায় পরিবর্তন সব মিলিয়ে এবার বাগবাজারের দুর্গাপুজোয় ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন অধ্যায়ের সংযোজন। মায়ের চোখ আঁকা শেষ। এখন অপেক্ষা শুধু বোধনের।