শিক্ষিকা হয়েও বাইকার, সর্বভারতীয় রের্কড বুকে নাম

১৯০২৪ ফুটের উমলিং লা জয় করে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম তুলেছেন বাঁকু়ড়ার মুন্না পাল বাসুলি।

মিলন কর্মকার, সংবাদিক :  এক সন্তানের মা আবার বাইকার। শিক্ষিকা হয়ে কিনা বডি বিল্ডার। আবার সুরেরও সাধনা করেন মন দিয়ে। একই অঙ্গে অনেক রূপ। তাও তাঁকে নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই।  সমাজের নানা কটুক্তি, বাঁকা চোখের চাউনি পেরিয়ে সর্বভারতীয় রের্কড বুকে নাম তুলে ফেলেছেন এই শিক্ষিকা। বাড়ি, পাড়ার রক থেকে স্কুলের পড়ুয়ারা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

মেয়ে বলে যদি মনের ভিতর সমস্ত ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতেন তাহলে হয়তো আর এভাবে নিজেকে খুঁজে পেতেন না বাঁকু়ড়ার মুন্না পাল বাসুলি। যদিও তিনি পাশে পেয়েছেন তাঁর পরিবারকে। না হলে কী আর সংসার ফেলে বাইক নিয়ে টো টো করে বেড়াতে পারতেন। সম্প্রতি ১৯০২৪ ফুটের উমলিং লা জয় করে নাম তুলেছেন ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে। সর্বভারতীয় রেকর্ড বুকে নাম তুলে মুন্না পাল বাসুলি হয়ে উঠেছে বাঁকুড়ার আইকন।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ মোটোরেবল পাস উমলিং লা অভিযানে বের হয়েছিলেন তিনি।  গত ৩ রা অক্টোবর বাঁকুড়া এক্সপ্লোরেশন নেচার অ্যাকাডেমি চারজনের একটি দল বের হয়। লক্ষ্য ছিল থালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা দেওয়া। সেই বার্তা নিয়েই বাইকে করে টিম লিডার আলিমুদ্দিন, ডক্টর সুনীতা, শিক্ষক সুকান্ত পাল ও মুন্না পাল বাসুলি,  বেরিয়ে পড়েন বিপদসঙ্কল পর্বতের রাস্তায় বাইক সফরে। পথের বাঁকে বাঁকে ছিল নানা বিপদ। কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো কখনও মাইনাস ৭ থেকে১০ ডিগ্রি সেলসিয়ার তাপমাত্রায় হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডায় বাইক চালানো। পাহাড়ি পথে চোখের সমানে মৃত্যুকে দেখেছেন। তবুও থমকে যায়নি বাইকের চাকা। স্কুটি নিয়েই পৌঁছেছেন লক্ষ্যে।  কেমন ছিল সেই সব দিনের অভিজ্ঞতা। চলুন শুনে নিই মুন্না পাল বাসুলির কাছ থেকেই।

মুন্না পাল বাসুলির স্বামীও পেশায় শিক্ষক। বদ্ধ সামাজিক ধ্যান ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সংসারের গণ্ডির বাইরের জগতে ডানা মেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই স্ত্রীর কৃতিত্বে গর্বিত মুন্না পাল বাসুলির স্বামী।

শিক্ষিকা বলতে যে ছবি ভেসে ওঠে তা হল, চিরাচরিত সাজ পোশাক, মার্জিত ব্যবহার আর জ্ঞানের ভান্ডার। মুন্না পাল ভেঙে দিয়েছে সেই ধ্যান ধারণা। শিক্ষিকা হয়েও তিনি বাইকার, বডি বিল্ডারও। সবকিছু সামলে আবার স্কুলের দায়িত্ব সামলান অন্যান্য শিক্ষকদের মতোই। বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাইস্কুলের ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষিকা। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকা থেকে পড়ুয়ারা মুন্না পালের স্বীকৃতিতে খুশি।

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। মুন্না পাল বাসুলি করে দেখিয়েছেন। তিনি সত্যিই সমাজ গড়ার কারিগর। এই সমাজে এগিয়ে যেতে হলে মেয়েদের সাহসী হতে হবে। ঘরের চার দেওয়াল নয় তাঁদের জন্য পড়ে রয়েছে এই জগৎ। শুধু মনে সাহস আর দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টালেই অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। মুন্না পাল বাসুলি এই শিক্ষাই দেন তাঁর পড়ুয়াদের। বাঁকুড়ার মুন্না পাল বাসুলি সহ চারজন বাইক আরোহীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় বাঁকুড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে।