চোর অপবাদ দিয়ে এক যুবককে দফায় দফায় মারধর, গুলি করে প্রাণে হত্যার হুমকির অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। অপমানে, ভয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা: তৃণমূল নেতার দাদাগিরি! চোর অপবাদ দিয়ে এক যুবককে দফায় দফায় মারধর, গুলি করে প্রাণে হত্যার হুমকির অভিযোগ। অপমান ও ভয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা। বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই যুবক।
নদিয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনুপ দেবনাথ। পেশায় দিনমজুর। ওই এলাকার তৃণমূল নেতা সোনা ঘোষের বাড়িতে এসে কয়েক মাস ধরে কাজ করতেন। দুদিন আগে পাঁচিল করার জন্য জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সোনা ঘোষ নিজেই। সেখানেই সোনা ঘোষ তার আঙুলের একটি সোনার আংটি খুলে কাজ করছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর সেই আংটি নিতে ভুলে যায়। পরবর্তীকালে মনে পড়লে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেও সেই আংটি আর সে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীকাল ওই দিনমজুর অনুপ দেবনাথের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন ওই আংটি পেয়েছেন কিনা, কিন্তু অনুপ দেবনাথ জানান, তিনি কোন কিছুই সেখানে পাননি। পরের দিন সোনা ঘোষের সঙ্গে দেখা করার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার জন্য কলকাতায় চিকিৎসা করাতে চলে যান। অনুপ ঘোষের পরিবার অভিযোগ তোলেন, বাড়ি ফেরার সময়ে শান্তিপুর স্টেশনে নামতেই সোনা ঘোষের ভাই এবং ম্যানেজার তাঁকে স্টেশন থেকে মারতে শুরু করে। পরবর্তীকালে দুই তিন দফায় এই মারধর চলে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। অনুপ দেবনাথ ভয় এবং আত্মসম্মানে অবশেষে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। অনুপ দেবনাথের পরিবারের অভিযোগ, এই সোনা ঘোষ তৃণমূল নেতা। এলাকায় তার যথেষ্ট দাপট রয়েছে। এই সোনা ঘোষ হুমকি দিয়ে অনুপকে গুলি করে মেরে রেল লাইনে ফেলে দেবে বলেও হুমকি দিয়েছে। সেই ভয়ে আতঙ্কে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ। প্রশাসনকে সুবিচার করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন অনুপ দেবনাথের পরিবারের সদস্যরা।
যদিও অনুপ দেবনাথের পরিবারের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা সোনা ঘোষ। তিনি বলেন, “আমার আংটির মূল্য ছিল কয়েক লক্ষ টাকা। আমি শুধুমাত্র তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আংটিটি সে পেয়েছে কিনা। আর গুলি ও মার দূরের কথা, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি চাইলে ওর বিরুদ্ধে অনেক আগেই আইনত ব্যবস্থা নিতে পারতাম।”
অন্যদিকে ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন শান্তিপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রভাত বিশ্বাস। তিনি বলেন, ”সোনা ঘোষ আমার ওয়ার্ডের তৃণমূলের কনভেনার। তবে অনুপ দেবনাথের পরিবার যে অভিযোগ তুলছে তা পুরোটা সত্য নয়। আমি যেটুকু খবর পেয়েছি পুরো ঘটনার মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। ”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা নৃপেন মণ্ডল বলেন, ”শুধু শান্তিপুর নয় সাড়া রাজ্যজুড়ে প্রমোটারিরাজ চলছে নতুন কিছু নয়। অসহায় পরিবারকে ভয় দেখিয়ে প্রমোটারি করতে সুবিধা হয়। প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে এর ব্যাবস্থা নিক।”