সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে ভয়াবহ বিপত্তি। মাতলা নদীতে বোটের মধ্যেই খাওয়া দাওয়া সেরে হাত ধুতে গিয়ে তলিয়ে গেল যুবক।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: শীতের মরসুমে সুন্দরবনে এখন পর্যটকদের ভিড়। তারই মধ্যে ঘটে গেল ভয়াবহ ঘটনা। রাতের অন্ধকারে লঞ্চ থেকে মাতলা নদীতে তলিয়ে গেলেন এক পর্যটক। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি। তিনি কি আদৌ বেঁচে আছেন? সেই প্রশ্নও উঠছে। নিখোঁজ ওই পর্যটকের নাম সুমন্ত পাল। তিনি দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৬ জানুয়ারি গড়িয়া থেকে ২২ জনের পর্যটকদের একটি দল সুন্দরবনের কৈখালিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
সেখান থেকে সুন্দরবনের অন্যান্য জায়গায় তাঁরা ঘুরতে যান। ওই দলেই ছিলেন বছর ২৬ বয়সের সুমন্ত পাল। দু’দিন জঙ্গল ঘুরে বেড়ানোর পর গতকাল, শনিবার ফের তাঁরা কৈখালিতে ফিরেছিলেন। মাতলা নদীতে বোটের মধ্যেই তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
রবিবার রাতে সেই লঞ্চেই ঘটল ভয়াবহ ঘটনা। জানা গিয়েছে, রাতে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি বোটের সিঁড়ি দিয়ে উপর থেকে নীচে নামছিলেন। তাঁর হাতে ভাতের থালা ছিল। জানা গিয়েছে, সেসময়ই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। লঞ্চের সিঁড়ি থেকে ওই যুবক সরাসরি মাতলা নদীতে পড়ে যান। মুহূর্তে তিনি তলিয়ে যান বলে খবর।
বোটের চালক ও অন্যান্যরা ওই যুবককে খোঁজার জন্য জলে নেমেছিলেন। কিন্তু মাতলায় বরাবরের মতো ওই রাতেও স্রোত ছিল। ফলে সুমন্ত পালের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। খবর দেওয়া হয় বনদপ্তর ও কুলতলি থানায়। রবিবার সকাল থেকে মাতলায় তাঁর খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। কিন্তু এদিন দুপুর পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁর কি বেঁচে থাকার কোনও সম্ভাবনা আছে? সেই প্রশ্নও উসকে যাচ্ছে।
কিন্তু কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? লঞ্চের চালক শুভেন্দু সর্দার জানিয়েছেন, রাতে ভাতের থালা নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন ওই যুবক। সেসময় শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারেননি তিনি! মাতলায় পড়ে যান ওই পর্যটক। পর্যটন দলের সঙ্গে থাকা সদস্য জয় সাহা বলেন, “আমাদের সকলের বাড়ি গড়িয়ায়। ২২ জন আমরা এসেছিলাম সুন্দরবন ঘোরার জন্য। কিন্তু এভাবে দুর্ঘটনা ঘটবে, কখনওই বুঝে উঠতে পারিনি।” এটি কি নিছক দুর্ঘটনা? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে? সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বোটের অন্যান্যদের জেরা করছে পুলিশ। ওই যুবকের বাড়িতে দুঃসংবাদ পাঠান হয়েছে।