ডিমের ভাগ নিয়ে বচসার জেরে খুন !

 ডিম খাওয়া নিয়ে বচসার জেরে বন্ধুর হাতে খুন যুবক। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কামারপুকুরে।

অনুপ চট্টোপাধ্যায়: সামান্য তিনটি ডিম খাওয়া নিয়ে এমন নির্মম পরিণতি! হুগলির গোঘাটের কামারপুকুরে এক ক্লাবে ঘটে গেল রক্তাক্ত ঘটনা। জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসান উপলক্ষে ক্লাবে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন হয়েছিল। সেই আনন্দমুখর পরিবেশ মুহূর্তে বদলে যায় শোকের ছায়ায়। অভিযোগ, ডিম খাওয়া নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটি থেকেই শুরু হয় বচসা, আর সেই বচসাই শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিল এক যুবকের।

মৃত যুবকের নাম রামচন্দ্র ঘোষাল (২৬)। তিনি কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠের পূজারী তারক ঘোষালের একমাত্র পুত্র। জানা গেছে, কামারপুকুর লাহাবাজার এলাকার এক ক্লাবে ভাসান শেষে খাওয়াদাওয়ার সময় অন্যদের জন্য রাখা ডিম খেয়ে ফেলেন রামচন্দ্র। সেই নিয়েই এক বন্ধু রাজু মাইতির সঙ্গে বচসা বাঁধে তাঁঢ়।

বচসা মিটে গেলেও, বাড়ি ফেরার পথে ফের শুরু হয় ঝগড়া। অভিযোগ, তখনই রাজু মাইতি প্রতিবন্ধী এক বন্ধুর স্কেচার দিয়ে রামচন্দ্রের ঘাড়ে সজোরে আঘাত করে। এরপর তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় কামারপুকুর মঠ সংলগ্ন শ্রীধাম প্রতীক্ষালয়ে। কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয়রা রামচন্দ্রকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভেঙে পড়েছে পরিবার। রামচন্দ্রের মা-বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, “ছেলের কোনও শত্রু ছিল না, সামান্য ঝগড়ার কারণে ওকে মেরে ফেলল!” এলাকাবাসীরও প্রশ্ন- এত বড় ঘটনা ঘটল অথচ পুলিশ টেরই পেল না! কারণ, ঘটনাস্থল থেকে কামারপুকুর পুলিশ ফাঁড়ি মাত্র কয়েক মিটার দূরে। কয়েক মাস আগেই হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার ২৪ ঘণ্টা নজরদারির জন্য এলাকায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন। তবুও ঘটনার সময় কোনো পুলিশি পদক্ষেপ না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত রাজু মাইতিকে আটক করেছে গোঘাট থানার পুলিশ। তদন্তে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন, তবে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। স্থানীয়দের বক্তব্য, “যেখানে মঠ, পুলিশ ফাঁড়ি ও সিসিটিভি একসঙ্গে রয়েছে, সেখানে যদি এমন খুন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কেমন করে নিরাপদ থাকবে?”

এই ঘটনায় শুধু এক পরিবারের নয়, গোটা এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে। যেখানে একসময় পুজোর আনন্দে মেতেছিল ক্লাব, সেখানেই আজ শোকের নিস্তব্ধতা। বন্ধুর হাতে বন্ধু খুনের এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে সমাজের মানবিকতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। একটি তুচ্ছ কারণ।  একটি ভুল মুহূর্ত।  আর তাতেই ঝড়ে পড়ল একটি তরতাজা প্রাণ।  রামচন্দ্র ঘোষাল এখন শুধুই স্মৃতি।  আর তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ফেলে গেল অজস্র প্রশ্ন।