যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে গিয়ে আটক আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ

২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিনে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল যন্তরমন্তরে। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তাতে অনুমোদন দেয়নি। তারপরও বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে আটক হলেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হলেন আম আদমি পার্টির (আপ) দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ। শুক্রবার বিক্ষোভস্থলে পৌঁছনোর পরই তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটক হওয়ার আগে পুলিশি হেনস্থার অভিযোগও তোলেন আপ নেতা। তাঁর দাবি, বিক্ষোভে আসা মহিলা কর্মীদের সঙ্গে পুরুষ পুলিশকর্মীরা দুর্ব্যবহার করেছেন। এমনকি পুলিশ তাঁকেও আঁচড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভরদ্বাজের অভিযোগ, ‘‘পুলিশ যা করছে, তা আসলে সরকারের নির্দেশেরই প্রতিফলন।’’ তবে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলে দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি। আপ বিধায়ক সঞ্জীব ঝাকেও আটক করা হয়েছে বলে জানান ভরদ্বাজ।

আটকের কয়েক মিনিট আগে সংবাদমাধ্যমকে ভরদ্বাজ বলেন, তাঁর বাড়ির বাইরে সারা রাত পুলিশ মোতায়েন ছিল। এমনকি স্থানীয় থানার এসএইচও-ও সেখানে ছিলেন বলে দাবি তাঁর। সেই নজরদারি এড়িয়েই তিনি যন্তর মন্তরে পৌঁছেছেন বলে জানান আপ নেতা।

ভরদ্বাজ বলেন, ‘‘আমি গাড়ি ছাড়াই এখানে এসেছি। মেট্রোয় ১১ টাকা এবং অটোচালককে ৮০ টাকা দিয়ে মাত্র ৯১ টাকায় যন্তর মন্তরে পৌঁছেছি। আমি যদি আসতে পারি, তা হলে আমাদের তরুণ বন্ধুরাও আসতে পারবেন।’’

পরে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে ভরদ্বাজ দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলা সত্ত্বেও তাঁকে এবং সঞ্জীব ঝাকে আটক করেছে পুলিশ। আন্দোলন থামবে না বলেও বার্তা দেন তিনি।

যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে পুলিশি উপস্থিতি এবং কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার প্রসঙ্গও ওঠে। ভরদ্বাজের আবেদন, বাধা থাকলেও শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করুন মানুষ। তাঁর কথায়, এই লড়াই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে। তবে সেই লড়াই সাংবিধানিক এবং শান্তিপূর্ণ পথেই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ দিকে, ভরদ্বাজের আটকের পর আপ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আন্দোলনকারীদের আরও বেশি সংখ্যায় যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আপ নেতৃত্ব। দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে।