দিওয়ালি পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের নির্দেশ অভিজিৎ দীপকের

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে তাঁর সমর্থকদের আগামী দিওয়ালি পর্যন্ত সমস্ত ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার পর সমর্থক ও তাঁদের পরিবারের মানসিক উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

ইনস্টাগ্রাম লাইভ ও ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে সমর্থকদের উদ্দেশে জানান, উৎসবের সময় তাঁরা যেন আন্দোলন থেকে কিছুদিন বিরতি নিয়ে পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান। তবে যন্তর মন্তর-কাণ্ডে দলের দুই সহকর্মী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা নিয়ে তিনি যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রাম লাইভে দীপকে বলেন, তাঁর আবেগকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ হয়তো তাঁকে ট্রোল করতে পারেন। কিন্তু সৌরভ ও আশুতোষ তাঁর কাছে পরিবারের সদস্যদের মতো। তাঁদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও টান থেকেই তিনি মানসিকভাবে এতটা বিচলিত হয়ে পড়েছেন।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর বিরোধিতায় দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল সিজেপি-সহ একাধিক বিরোধী দল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন গত ১৩ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ সিজেপির দুই পরিচিত নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের তিহার জেলে পাঠানো হয় এবং বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদও বাড়ানো হয়। এই পরিস্থিতিতে দলের দুই সহকর্মীকে পাশে না পেলেও সমর্থকদের ভেঙে না পড়ার বার্তা দিয়েছেন অভিজিৎ দীপ। তাঁদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দীপের কথায়, সৌরভ ও আশুতোষ যে ত্যাগ স্বীকার করছেন, তা কখনও বিফলে যাবে না। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে তাঁদের সমর্থকদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। সেই কথা মাথায় রেখেই দিওয়ালি পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে সমর্থকদের বাড়িতে থেকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।সৌরভ ও আশুতোষের প্রতিবাদের ধরনকে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গে তুলনা করেছেন দীপ। তাঁর মতে, প্রকৃত সাহস ও শক্তির পরিচয় পাওয়া যায় ত্যাগের মধ্য দিয়ে। সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে যেদিন তাঁরা হাসিমুখে ফিরে আসবেন, সেদিন গোটা দেশ তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা দেবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।