সংবিধান সংশোধনী বিল পেশের আগেই আক্রমণে অভিষেক

পাক অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার করতে পারে না, অথচ বিরোধী দল পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলোকে উৎখাত করতে চাইছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রস্তাবিত ‘সংবিধান সংশোধনী বিল’ নিয়ে চূড়ান্ত কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোষ্ট তৃণমূল সাংসদের।

সঞ্জু সুর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- সংসদ ভবন সূত্রে খবর বুধবার লোকসভায় একযোগে তিনটি ‘সংবিধান সংশোধনী বিল’ পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বিল নিয়েই আশঙ্কার কালো মেঘ বিরোধী শিবিরে। এই বিল আইনে পর্যবসিত হলে অবিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলোকে ঘুরপথে উৎখাত করতে ‘ইডি’ (Enforcement Directorate)-কে কাজে লাগানো হবে বলেই মত তাঁদের। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোষ্ট করে সেই ইঙ্গিতের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে এই বিল একটি ‘অত্যাচারী সংবিধান সংশোধনী বিল’।

এক্স হ্যান্ডেলে এক লম্বা পোষ্টে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করে অভিষেক লিখেছেন, “দেশের সব বিরোধী দল ও পুরো দেশের মানুষের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও যারা পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করার সাহস দেখাতে পারে না, শুধু বুক চাপড়িয়ে ফাঁকা বুলি আওড়ায় কিন্তু সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বাস্তব পরিকল্পনা এদের নেই।” অভিষেক আরও লিখেছেন, এক ‘ই.সি’ (Election Commission)-কে কাজে লাগিয়ে S.I.R করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর এখন সরকার আরেকটি ‘ই’ অর্থাৎ ‘ই.ডি’ (Enforcement Directorate) কে কাজে লাগিয়ে বিরোধী নেতা মন্ত্রীদের টার্গেট করতে চাইছে। এইভাবে আসলে বিজেপি দেশের গণতান্ত্রিক সার্বভৌমত্ব নষ্ট করে নির্বাচিত রাজ্য সরকার গুলিকে উৎখাত করতে চাইছে বলেই অভিযোগ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে চূড়ান্ত আক্রমণ করে তিনি লিখেছেন, বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে দেশের আত্মা বিক্রি করে দেওয়া, দেশের সংবিধানকে বিক্রি করে অযোগ্য স্বৈরশাসকদের হাতে দেশ চালানোর ক্ষমতা তুলে দেওয়া।

প্রসঙ্গত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতর যে বিল এর প্রস্তাব ইতিমধ্যেই লোকসভার সচিবালয়ে জমা দিয়েছে সেই অনুযায়ী তিনটি বিল হলো ১) সংবিধান (১৩০ তম সংশোধনী) বিল’২০২৫, ২) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকার (সংশোধনী)বিল’২০২৫ ও ৩) জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল’২০২৫। সূত্রের খবর এই বিলের প্রস্তাবনায় লেখা আছে কেন্দ্র, রাজ্য বা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের কোনো মন্ত্রী (তা সে প্রধানমন্ত্রী হোক, মুখ্যমন্ত্রী হোক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হোক, রাজ্যের মন্ত্রী হোক বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কোনো মন্ত্রী হোক) যদি গুরুতর কোনো অভিযোগে একটানা তিরিশ দিন হেফাজতে থাকেন, তাহলে তৎক্ষণাৎ তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রীসভার কোনো সদস্যের ক্ষেত্রে রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ক্ষেত্রে উপ-রাজ্যপালের হাতে এই অপসারনের ক্ষমতা দেওয়া থাকছে বিলে। বিলের উদ্দেশ্য মহৎ মনে হলেও বিরোধীদের আশঙ্কা এই বিল শুধু বিরোধীদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হবে।