“৯-০ করতে হবে। সব আবর্জনা উপড়ে ফেলতে হবে।“

কোচবিহারে রণ সংকল্প সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মঙ্গলবার কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন অভিষেক। ফেসবুকে সেই ছবি শেয়ার করে অভিষেক লিখেছেন, “বঙ্গবাসীর মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনায় এবং রাজ্যের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির লক্ষ্যে- আমি পরমেশ্বরের কাছে ভক্তিপূর্ণ প্রার্থনা জানালাম। ঈশ্বরের আশীর্বাদে পুণ্যভূমির সকল বিদ্বেষ বিলীন হোক। বিনাশ হোক সকল অশুভ শক্তির। এই তীর্থস্থানে পুজো নিবেদন করে হৃদয়ে এক প্রশান্তি অনুভব করছি। “

পুজোর পরই সভামঞ্চে পৌঁছে যান অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘৯টা বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬-৩ নয়, তৃণমূলের পক্ষে ৯-০ করতে হবে। সব আবর্জনা উপড়ে ফেলতে হবে। তবেই এরা শিক্ষা পাবে। যাঁরা ভাষা জানেন না, মনীষীদের অপমান করে, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, রবীন্দ্রনাথ সান্যাল, কবিগুরুর জন্মস্থান বলছেন শান্তিনিকেতন। সুকান্ত মজুমদার স্বামীজিকে বলছেন, অজ্ঞ বামপন্থী প্রোডাক্ট। এই শাহের নেতৃত্বে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল জল্লাদরা। এরা মা দুর্গার বংশ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করে। এদের কাছে হিন্দুত্ব শিখতে হবে?’’

অভিষেক বলেন, ‘‘আপনাদের স্যালুট. ৭৮০০০ ভোটে তৃণমূলকে জিতিয়ে আবর্জনাটাকে দূর করেছেন। নিশীথ প্রামাণিকের মতো, যে কটা আবর্জনা আছে সবকটাকে উপড়ে ফেলে দিন।’’ 

এদিন মঞ্চে কোচবিহারের দশজনকে হাজির করান অভিষেক। তারপরই ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ’’বিজেপির দালালরা এদের মৃত ঘোষণা করেছে। বলেছে এদের কোনও অস্তিত্ব নেই।বিজেপিকে যত জেতাবেন, নিজেদের অধিকার হারাবেন। এখানে যত মানুষ এসেছেন, এর এক তৃতীয়াংশ লোক দিল্লিতে গেলেও বিজেপির নেতারা বানের জলে ভেসে যাবেন।’’

দিল্লি সহ একাধিক রাজ্যে বাংলায় কথা বলায় একাধিক বাঙালিকে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ’’বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি হলে শুভেন্দু, সুকান্ত, নিশিথ প্রামাণিকরা কী ভাষায় কথা বলে ? ’’

অভিষেক বলেন, ‘‘উৎসাহ ধরে রাখতে হবে, যেখানে লড়াই করার সেখানে করতে হবে। আগামী ১০০ দিন মাঠে সেই উদ্দীপনা দেখাতে হবে।’’

অভিষেক বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ এদেরকে জবাব দেবে। মা মাটি মানুষের সরকার হবে। তাতে কোচবিহারের অবদান যাতে অন্যতম হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা বা হুগলি, বর্ধমানের মতো যাতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, আপনাদের একথা নিশ্চিত করতে হবে।’’