“ইটাহার ট্রেলার দেখল, আগামীতে সিনেমাও দেখবে”

Abhishek Banerjee Roadshow at Itahar :২৬-এ জয়ের খুঁটিপুজোর খুঁটিটা এই মাটিতেই পুঁতে দিয়ে গেলাম। বিগত ৫-৭ বছর যারা বাংলা বাঙালিকে অপমান করেছে, তাদেরকে বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : চারদিকে অগণিত মানুষের ভিড়। তার মাঝেই কালো গাড়ির মাথায় কালো টিশার্ট, কালো জ্যাকেট পরে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইটাহারের মাটিতে লক্ষাধিক মানুষের উদ্দেশে হাত নেড়ে এভাবেই জনজোয়ার যাত্রায় সামিল হলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। পাশাপাশি সমর্থকদের উদ্দেশে ছুঁড়ে দিলেন গোলাপের পাপড়ি।  সমর্থকদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, “২৬-এ জয়ের খুঁটিপুজোর খুঁটিটা এই মাটিতেই পুঁতে দিয়ে গেলাম। বিগত ৫-৭ বছর যারা বাংলা বাঙালিকে অপমান করেছে, তাদেরকে বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে। শুধু তৃণমূলকে জেতানোর লড়াই নয়, আগামীদিনে যারা বাংলাকে ভাতে মারতে চাইছে, সেই অসুরগুলোকে ঝেঁটিয়ে বিদায় দেওয়ার লড়াই।“

কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, “ইটাহারের মানুষ, দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষ, উত্তর দিনাজপুরের মানুষকে শপথ দিতে হবে, আগামীদিনে প্রত্যেক বুথ থেকে তৃণমূলকে জয়ী করতে হবে। যেভাবে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাধারণ মানুষ আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, তাদের কাছে আমি দায়বদ্ধ, যতদিন বাঁচবো, আমি আপনার কাছে ঋণী। এই ভালোবাসার ঋণ আগামী ৫ বছরে উন্নয়নের মাধ্যমে শোধ করবে তৃণমূল কংগ্রেস।“

হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেক বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা কী তার ট্রেলার দেখলো ইটাহার, আগামীতে সিনেমাও দেখবে। আজ যে পরিমাণ মানুষ রাস্তায় নেমেছে, এর এক তৃতীয়াংশ মানুষ যদি দিল্লি যায়, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, অমিত শাহ পালানোর পথ পাবেন তো ? “

বাংলা কথা বলায় বাংলাদেশি তকমার অভিযোগ উঠে এসেছে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে। সেই প্রসঙ্গে অভিষেকের আক্রমণ- “যারা আমাদেরকে বাংলাদেশি বলে, মাতৃভাষাকে অপমান করেছে, তাদের জবাব দিতে দিল্লি যেতে হবে। উত্তর দিনাজপুরে ৯টা, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৬টা। এই ১৫টা আসনেই ১৫-০ শূন্য করতে হবে।  তৃণমূলকে সবচেয়ে বেশি আসন এই মাটিই উপহার দেবে। এসআইআর করে জিততে পারবে না। আগেরবার সভা করেছিলাম বলে বিজেপি আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিল। তোমাদের মিছিলে লোক না হলে আমার কিছু করার নেই। শুনে রাখো দিল্লির নেতারা এই উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মাটি থেকে বলছি, যত ক্ষমতা আছে দেখাও।  কেন্দ্র সরকার তোমার, নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সংবাদমাধ্যম ও বিচারব্যবস্থার একাংশ তোমার, গায়ের জোর তোমার, কিন্তু বাংলার ১০ কোটি মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে। “

অভিষেকের কটাক্ষ- “২০১৬, ১৯, ২১, ২৪ সব ভোটেই তো ভোকাট্টা। গো হারা হেরেছে। যত কুৎসা করবে, মুখ থুবড়ে পড়বে, দেখবে আর জ্বলবে লুচির মতো ফুলবে। “

এরপরই এসআইআর ইস্যুতে সরব হয়েছেন অভিষেক। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে নোটিস এবং মহম্মদ সামিকে নোটিস পাঠানো নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। অভিষেক বলেন, “নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন মহম্মদ সামিকে নোটিস দিচ্ছে, যারা দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছে, তাদের নোটিস ধরাচ্ছে, বিজেপির বাবারা বলছে আমাদের নাকি কাগজ দেখাতে হবে। তোমাদের কাগজ আছে ? ওদের বাবা-দাদুর কাগজ দেখাতে বলুন। আজ ৭৫ বছর  দেশে বসবাস করার পর যদি এদেশের নাগরিক বলে প্রমাণ করতে হয়, তাহলে এর থেকে লজ্জার আর কিছু হয় না। “

কেন্দ্রের কাছে বাংলার পাওনা বকেয়া নিয়েও সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আজকের দিনে বাংলার বকেয়া পাওনা- ২ লক্ষ কোটি টাকা। ২৯৪ টি বিধানসভা ২ লক্ষ কোটি টাকা পায়। অর্থাৎ একটা বিধানসভায় ৬৮০ কোটি টাকা বকেয়া। এদেরকে খালি হারালে চলবে না। উৎখাত করতে হবে।“

এছাড়া বিজেপির গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করায় এক যুবকের উপর অত্যাচার এবং মহারাষ্ট্রে বাংলা ভাষা বলায়, তাঁকে বাংলাদেশি অপবাদ দিয়ে পুলিশের গ্রেফতারি। পরে আদালতে গিয়ে লড়াই করে তাকে ফিরিয়ে আনে তৃণমূল কংগ্রেস। সেসব কথাও আবার জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।