ফিটনেস ফ্রিক অভিষেক, চর্চা তুঙ্গে!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঘামে ভিজে শরীর, সাদা স্লিভলেস জিম টিশার্ট এবং জিম গ্লাভস পরে সেলফি। তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন ছবি ঘিরে ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। ইনস্টা স্টোরিতে অভিষেকের সাদাকালো ছবিটি শেয়ার করা হয়েছে। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল সাংসদের পরনে জিম ভেস্ট ও শর্টস। দু’হাতে জিম গ্লাভস। আই-ফোনে তোলা হয়েছে মিরর সেলফি। ছবিটি প্রকাশ্যে আসতেই এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে জেমিনি সহ একাধিক এআই অ্যাপে এভাবেই বিভিন্ন ধরণের ছবি এডিট করা যাচ্ছে।
ক্যামাক স্ট্রিটে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন সুব্রত বক্সীও। সেখানেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই নিউ লুকের ছবি উপহার দেন বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাত। তাতেই স্পষ্ট হয়েছে যে, ছবিটি আসল।


২০১৪ সালে প্রথম যখন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হয়েছেন তখন গোলগাল চেহারা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পরনে থাকতো সাদা পাঞ্জাবি। ১১ বছরে আমূল পরিবর্তন দেখা গিয়েছে অভিষেকের মধ্যে। মোটাশোটা শরীর ঝড়িয়ে হয়েছেন স্লিম অ্যান্ড ট্রিম। সাদা পাঞ্জাবি ছেড়ে টিশার্ট জিন্সে পরেছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। এছাড়া কথাবার্তা বা ভাষণেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। মঞ্চে রাজনৈতিক ভাষণ থেকে শুরু করে অপারেশন সিঁদুরের পর বিভিন্ন দেশে গিয়ে ভারতের হয়ে প্রচারে ক্ষেত্রেও খ্যাতি কুড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফিটনেস লুক দিয়ে তৃণমূল কোনও সুবিধা করতে পারবে না বলে দাবি শুভেন্দুর। পশ্চিমবঙ্গে একটা প্যান্টকে ৩বার সেলাই করে পরে এমন যুবকের সংখ্যা অনেক। রাজ্যে ২কোটি ১৫ লক্ষ বেকার। ৯ বছর পর এসএসসি পরীক্ষা হচ্ছে, তাও আবার সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিই একমাত্র বিকল্প বলছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

মানুষ আর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হেভিওয়েট চেহারা এবং হেভিওয়েট দুর্নীতির কথা শুনতে চাইছে না। সেজন্যই তৃণমূলকে এমন ফিটনেসের ছবি সামনে আনতে হচ্ছে, বলছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

অভিষেকের ছবি দেখে হইহই করে স্বাগত জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আর বিজেপি নেতারা যখন অদ্ভূত ভঙ্গিমায় আসন করেন, তখন তো লোক হাসাহাসি করেন। এটা তো ট্রেলার, বলছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

যোগা দিবস থেকে শুরু করে ফিট ইন্ডিয়ায় বিভিন্ন ছবি আপলোড করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে একাধিক বিজেপি নেতৃত্বকে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের নেতাদের মধ্যে তেমন ফিটনেস সহসা দেখা যায় না। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোর মুখে একাধিকবার বিভিন্ন ফিটনেস মন্ত্র শোনা গিয়েছে, যেমন প্রশাসনিক বৈঠকে কখনও নেত্রী বলে ওঠেন, ভুড়িটা কমান। কখনও আবার সমতল থেকে পাহাড়ের রাস্তায় নেমে দীর্ঘ পথ পদযাত্রা। হাঁটায় কখনও কখনও না নেই নেত্রীর। দীর্ঘসময় আগে একবার সোশ্যাল মিডিয়াতে ছোট কুকুর হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ট্রেডমিলে হাঁটার ছবি ভাইরাল হয়েছিল, যা স্পষ্ট করে বয়স সত্তোর পেরোলেও ফিজিক্যালি যথেষ্ট অ্যাক্টিভ তৃণমূল সুপ্রিমো। সবমিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব, বেকারত্ব ভুলে ফিটনেসের উপর ভর করে কে ২০২৬-এর বৈতরণী পার করে সেটাই এখন দেখার।