SIR নিয়ে সরব হলেন ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : সেবাশ্রয়ের মঞ্চ থেকে রাজ্যের থেকে পাওয়া করের খতিয়ানও তুলে ধরলেন ডায়মন্ড হারবারারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গত সাত বছরে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্য়ক্ষ এবং পরোক্ষ করের দৌলতে বাংলা থেকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু পরিবর্তে বকেয়া প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা দেয়নি। এর পাশাপাশি এসআইআর-এর জেরে বাংলায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই তিনি বলেন, “আমরা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে নই। কিন্তু এই অপরিকল্পিত উদ্যোগের বিরোধী। ছয় মাস ধরে এসআইআর করুন, আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বিএলওদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিন। আর আমরা এই সব নিয়ে আলোচনা চাইলে আমাদের দাবিকে ড্রামা বলা হয়।”

শুধুই ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনই নয়। বঞ্চনা ইস্যুতেও সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ”হাইকোর্ট একশো দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু মোদী সরকার সেই নির্দেশকেও এখনও মানেনি। কাজ শুরু হয়নি। রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এক টাকাও ফেরত দেয়নি কেন্দ্র। অভিষেকের মতো মোদী সরকারকে পালটা দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। এক্স হ্যান্ডেলে খাড়গে লেখেন, ”গত ১১ বছর ধরে সংসদীয় রীতিনীতি লঙ্ঘন করছে এই সরকার। আলোচনা ছাড়াই অন্তত ১২টি বিল পাশ হয়েছে।”

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সাফ বলেন,”কোনও ইস্যুতে সরব হওয়া মানেই সেটা নাটক নয়। বরং জনপ্রতিনিধিদের দূষণ, এসআইআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বলতে না দেওয়াটাই নাটক। ”
সোমবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতে সংসদে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একের পর এক মন্তব্য করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে নিশানা করেন তিনি। মোদী বলেন, ”বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশন। বিরোধীরা পরাজয়ের হতাশা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসুন এবং মজবুত পদক্ষেপ করুন। সুতরাং এই অধিবেশন পরাজয়ের হতাশা বা জয়ের অহঙ্কারের ময়দান হতে পারে না। নতুন প্রজন্মের সংসদ সদস্যরাও এর থেকে শিক্ষা নেবেন। এখানে নাটক নয় পরিষেবা দিতে হবে। রাষ্ট্রনীতির উপর আলোচনা হওয়া উচিৎ।”
বিরোধীদের বিরোধিতাকে নাটক বলে কটাক্ষ করায় এবার প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই পথে হেঁটে মোদী সরকারকে নিশানা করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে।